দেশের বাজারে পুনরায় স্বর্ণের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের অস্থিরতা, ডলার–টাকার বিনিময় হার এবং আমদানি খরচ বৃদ্ধির কারণে স্থানীয় বাজারে এ প্রভাব পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দামে তেজাবি স্বর্ণসহ সব ক্যারেটের স্বর্ণের দাম বেড়েছে। এর ফলে স্বর্ণের বাজারে সাময়িক অস্থিরতা দেখা দিলেও ব্যবসায়ীরা বলছেন, “এটি আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় করার প্রক্রিয়ার অংশ।”
স্বর্ণের নতুন দাম (ভরি প্রতি)
২২ ক্যারেট: ২ লাখ ১৩ হাজার ৭১৯ টাকা
২১ ক্যারেট: ২ লাখ ৪ হাজার ৩ টাকা
১৮ ক্যারেট: ১ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫৫ টাকা
সনাতন: ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫২০ টাকা
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৬ শতাংশ ন্যূনতম মজুরি যুক্ত হওয়ায় গহনার চূড়ান্ত দাম আরও বাড়বে। তবে ডিজাইন ও ওজনের ওপর নির্ভর করে মজুরির অংক পরিবর্তন হতে পারে।
বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের উদ্বেগ :
স্বর্ণের দাম টানা দুই দফা বৃদ্ধির ফলে বিয়ে–শাদি বা মৌসুমি কেনাকাটা সামনে রেখে অনেক ক্রেতাই পড়েছেন বিপাকে।
মোহাম্মদপুরের এক ক্রেতার ভাষায়-
“বিয়ের সময় খুব কাছেই। হঠাৎ এমন দাম বাড়লে গহনা কিনতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে।”
অন্যদিকে দোকানিরা বলছেন, স্বর্ণের স্টকে আগের দামে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হন না। কারণ দাম বাড়লে পুরোনো স্টক বিক্রিতেও অতিরিক্ত লাভ হয়।
ব্যবসায়ীদের ব্যাখ্যা :
বাজুস জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্সে নতুন উচ্চতা স্পর্শ করায় স্থানীয় বাজারেও এ সমন্বয় প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
বাজুসের এক কর্মকর্তা বলেন-
“ডলার সংকট ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি স্বর্ণের মূল্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে দামও কমানো হবে।”
রুপার বাজার স্থিতিশীল :
স্বর্ণের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
রুপার দাম (ভরি প্রতি):
২২ ক্যারেট: ৪,২৪৬ টাকা
২১ ক্যারেট: ৪,০৪৭ টাকা
১৮ ক্যারেট: ৩,৪৭৬ টাকা
সনাতন: ২,৬০১ টাকা
দোকানিরা জানাচ্ছেন, রুপার বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয়নি।





