জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, “জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ চায়। কিন্তু কেউ কেউ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছে।” তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের কেউ চোখ রাঙিয়ে থামাতে পারবে না। আমরা কারও ভয় পাই না।”

\r\n

শনিবার (১৭ মে) দুপুরে পাবনার সুজানগরে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুজানগর অডিটোরিয়াম কাম কমিউনিটি সেন্টার ও পৌর হাট মাঠে এই সম্মেলনের আয়োজন করে সুজানগর ও বেড়া উপজেলা জামায়াত।

\r\n

রফিকুল ইসলাম খান দাবি করেন, “জামায়াতের দুই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির প্রমাণ নেই। এটা আমাদের সৎ রাজনীতিরই দৃষ্টান্ত। অথচ শহীদ মতিউর রহমান নিজামীসহ দলের শীর্ষ নেতাদের ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা করা হয়েছে। দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকেও কারাগারে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে।”

\r\n

তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “জুলাই বিপ্লবে নিহতদের পরিবার থেকে একজন করে সরকারি চাকরি দিতে হবে। আহতদের পুনর্বাসন করতে হবে এবং গণহত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচার করতে হবে। শুধু শেখ হাসিনার বিচার করলেই হবে না, যারা জড়িত ছিলেন, তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।”

\r\n

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম বলেন, “এই সরকারে যারা আছে, তাদের অনেকেই নিজেদের মালিক মনে করছেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের গ্রেপ্তার করতে হবে, কারণ এরা মানুষ গুম, নির্যাতন এবং নির্বাচন ব্যবস্থার ধ্বংসের সঙ্গে জড়িত ছিল।”

\r\n

এ সময় তিনি জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান এবং জামায়াতের নিবন্ধন ও নির্বাচনী প্রতীক ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

\r\n

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও সুজানগর উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক কে এম হেসাব উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, নায়েবে আমির ইকবাল হোসাইন, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, অধ্যাপক আলী আসগর প্রমুখ।

\r\n

অনুষ্ঠানে পাবনার পাঁচটি আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নপ্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য মিছিল পৌর শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা গেটের সামনে গিয়ে শেষ হয়।