ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রার্থীদের সাফল্যকে ‘দীর্ঘদিনের বৈষম্যের প্রতিক্রিয়া’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতি অর্ধশতক ধরে বৈষম্য চলে আসছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে সীমিত সুযোগ, মেধা থাকা সত্ত্বেও পছন্দের বিষয়ে পড়তে না দেওয়া, চাকরির বাধা এবং সামাজিক উপেক্ষা তাদের মধ্যে ‘দেখিয়ে দেওয়ার মনোভাব’ তৈরি করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি পরীক্ষায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের কথাও উল্লেখ করছেন তারা। বিশেষ করে আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা সরকারি স্বীকৃত সনদের কারণে তুলনামূলকভাবে বেশি সুযোগ পাচ্ছেন। তবে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এখনও স্বীকৃতির সংকটে ভুগছেন। তাদের সনদ উচ্চশিক্ষা কিংবা চাকরির ক্ষেত্রে কার্যকর নয়।
২০১৮ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, মাদ্রাসা গ্র্যাজুয়েটদের ৭৫ শতাংশ বেকার। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বৈষম্যের স্পষ্ট উদাহরণ। তাদের প্রশ্ন, “কওমি শিক্ষার্থীদের কেন আলিয়ার মতো স্বীকৃতি দেওয়া হবে না?”
ইতিহাসের প্রেক্ষাপট টেনে তারা বলেন, ১৯৭১ সালের পর সেক্যুলারিজমের নামে ইসলামী শিক্ষাকে দমন করা হয়েছে। ফলে কওমিরা আরও আঘাত পেয়েছে। এ কারণে ছাত্রশিবির, বাগছাস কিংবা স্বতন্ত্রভাবে মাদ্রাসা ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীরা এবার ডাকসু নির্বাচনে উঠে এসেছেন।
তাদের মতে, কওমি ডিগ্রিকে সরকারি স্বীকৃতি দিয়ে আধুনিক কারিকুলাম যুক্ত করা গেলে শিক্ষার্থীরা মূলধারার শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে অংশ নিতে পারবে। এতে দেশের উন্নয়নে তাদের অবদানও বাড়বে।
বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, বৈষম্য ভাঙা না গেলে ভবিষ্যতে আরও বড় প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে





