ঢাকা, ১৬ আগস্ট: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, দেশের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে আলেম সমাজের রক্ত ও জীবনের অবদান থাকা সত্ত্বেও জুলাই সনদে তাঁদের ভূমিকা উপেক্ষিত হয়েছে।
শনিবার (১৬ আগস্ট) শ্যামপুর-কদমতলী জোন আয়োজিত এক উলামা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ড. মাসুদ বলেন, “স্বাধীনতা-পরবর্তী প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আলেমদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও আত্মত্যাগ ছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগের সহিংস তাণ্ডবে, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরে, এমনকি সর্বশেষ চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে আলেমরা যে ভূমিকা রেখেছেন তা জাতি ভুলে যায়নি।”
তিনি বলেন, “৪ আগস্ট আলেমরা কারফিউ ভেঙে গণভবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। তাঁরা মসজিদ নয়, সরাসরি জাতির নেতৃত্বের দাবিতে রাস্তায় নেমেছিলেন। অথচ অন্তর্বর্তী সরকারের জুলাই সনদে এই ঐতিহাসিক ভূমিকা কোনোভাবেই স্বীকৃতি পায়নি।” এসময় তিনি সরকারের ঐকমত্য কমিশনকে 'আলেমদের অবদান খাটো করে দেখছে' বলেও অভিযোগ করেন।
ড. মাসুদ আরও বলেন, “যারা আজ দ্বীনের কথা বলে, তারা যুগে যুগেই নিপীড়নের শিকার হয়েছে। মহানবী (সা.)-কে আরবের কাফেররাও আল-আমিন বলেছিল, কিন্তু আল্লাহর আইন কায়েমের কথা বলতেই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল। এখনো যারা ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলছে, তারা একই রকম হামলা ও হুমকির মুখে পড়ছে।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ও ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর দেশে একটি বৈষম্যহীন, কল্যাণমুখী ও মানবিক ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বাস্তব সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, “এই নির্বাচনী যুদ্ধে ইসলামী দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করে ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এটা কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থের লড়াই নয়, বরং এক আল্লাহর মনোনীত দ্বীন কায়েমের সংগ্রাম।”
মহানগরীর ওলামা সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা মোশারফ হোসাইন বলেন, “আলেমদের ঐক্য দেখে ইসলামবিদ্বেষীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তাই তারা নানা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে ইসলামী রাষ্ট্র গঠনে আলেমদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
সমাবেশের সভাপতি ও ঢাকা-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন বলেন, “যখন মানুষ আল্লাহর গোলামির পরিবর্তে মানুষের গোলামী বেছে নেয়, তখনই সমাজে ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দেয়। আলেমরা জীবন দিয়ে এ দেশের মানুষকে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত করেছে, কিন্তু এখনো পরিপূর্ণ বিজয় অর্জিত হয়নি।”
তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে ইসলামের পক্ষে ভোট দিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এর নেতৃত্বে আলেম সমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”
সমাবেশ পরিচালনা করেন কদমতলী মধ্য থানা আমির ও ঢাকা-৪ আসনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মুহাম্মদ মহিউদ্দিন। শুরুতে তালীমুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি মহিউদ্দিন দারসুল কোরআন পেশ করেন।





