গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি:  রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মহান আল্লাহকে নিয়ে কটুক্তির অভিযোগে শফিকুল ইসলাম নিশানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ধর্মপ্রাণ তাওহিদী জনতা।

শনিবার (৪ এপ্রিল) মাগরিবের নামাজের পর উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়ন বাজারে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মুসল্লিরা অংশ নেন। মিছিলটি বেতগাড়ি বাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম নিশান বেতগাড়ি ইউনিয়নের কিশামতশেরপুর এলাকার বাসিন্দা এবং এপতারুল হকের ছেলে। তিনি পেশায় ওষুধ ব্যবসায়ী। এর আগে তিনি জাতীয় পার্টির ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্র সমাজের বেতগাড়ি ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের এক আদেশে সাবেক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাইমিনুল ইসলাম মারুফকে পুনরায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বহাল করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার এক পোস্টে মন্তব্য করে নিশান লেখেন, ‘মামা, আল্লাহ তো একবার ইজ্জত নিছিলো। কিন্তু আমার আল্লাহ পরে বুঝতে পারছে এটা ভুল হইছে। তার সঙ্গে আমার আল্লাহ এটাও বুঝে গেছে, কিছু সুবিধাবাদী লোক এর পেছনে ছিল। সে কারণে আমার আল্লাহ আবার ইজ্জত দিয়ে দিলো। আসলে মামা, মানির-মান আল্লাহ ঠিকই রাখে।’

পরপরই আরেকটি মন্তব্যে তিনি লেখেন, ‘আল্লাহর কি ভুল হতে পারে না?’—যা নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এছাড়া দাড়ি-টুপি পরিহিত মানুষদের নিয়েও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে নিশান ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়ে নিজের মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান। তিনি লেখেন, উত্তেজনার বশে ভুল মন্তব্য করেছেন এবং সৃষ্টিকর্তা ও ধর্মের প্রতি অন্যায় করেছেন বলে স্বীকার করেন।

বিক্ষোভ-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। তারা বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী বক্তব্যের সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত। অনতিবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ সময় ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বিক্ষোভকারীরা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

তাওহিদী জনতার পক্ষে বক্তব্য দেন বেতগাড়ি মসজিদের ইমাম মাওলানা শোয়াইব আবরার, মো. নাজিরুল, মো. জীবন হোসাইন ও তৈয়ব আলী।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত নিশানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন পাকুড়িয়া শরীফ ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ, গঙ্গাচড়া কেন্দ্রীয় বাজার মসজিদ ও কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের খতিব মাওলানা আব্দুল ওহাব বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বড় ধরনের কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয়েছেন। ইসলামী শরিয়তে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের অবমাননাকারীদের বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে বর্তমানে শরিয়া আইন বলবৎ না থাকায় প্রচলিত আইনের আওতায় অভিযুক্তের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সবুর বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।