রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র কেড়ে নিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করেছিল। এ কারণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান অনিবার্য হয়ে উঠেছিল। এখন ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

শনিবার (৯ আগস্ট) সকালে সিরাজগঞ্জে ‘জুলাই বিপ্লব’ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে প্রত্যাশা সাংস্কৃতিক সংসদ আয়োজিত লেখক-শিল্পী সমাবেশ ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রফিকুল ইসলাম খান বলেন, স্বৈরাচারী এরশাদের পতনের পর ১৯৯১ সালের নিরপেক্ষ নির্বাচনে বিএনপি জামায়াতের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করলেও রূপরেখা অনুযায়ী কেয়ারটেকার ব্যবস্থা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করেনি। পরবর্তীতে আন্দোলনের মুখে বাধ্য হয়ে তা যুক্ত করা হলেও আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বাতিল করে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে তিনবার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সীমাহীন দমন-পীড়নে জনগণ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। লেখক, শিল্পী, কবি ও সাহিত্যিকদের উচিত ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে কলম ধরা ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা। তিনি প্রশ্ন রাখেন—“ফ্যাসিবাদ যদি শেষ না হয়, তাহলে জুলাই অভ্যুত্থানে দুই হাজার মানুষ কেন প্রাণ দিল? কেন হাজারো মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করল?”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রত্যাশা সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি ড. খ ম আব্দুর রাজ্জাক। আলোচনা সভায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো. আমিনুজ্জামান তালুকদার। আলোচনায় অংশ নেন ড. মো. ইসমাইল হোসেন, ড. মো. নজরুল ইসলাম, ড. এম. আব্দুস সবুর, মো. জাহাঙ্গীর আলম, ড. কামরুল ইসলাম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের তৃতীয় পর্বে অতিথিরা ‘ফিরে দেখা জুলাই বিপ্লব’ ২০২৫ সংখ্যার স্ফুরণ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলমসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন। শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ১০ গুণীজনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।