গত ১২ দিনের সংঘাতে ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে ইসরায়েল। তেহরানে চালানো আঘাতে অন্তত ৩০ জনের বেশি নিরাপত্তা বাহিনীর সিনিয়র কমান্ডার এবং ১১ জন শীর্ষ পরমাণু বিজ্ঞানী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এই হামলার ফলে ইরানের উচ্চাভিলাষী পারমাণবিক কর্মসূচি পিছিয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের এক সামরিক কর্মকর্তা।—রয়টার্স
তিনি আরও জানান, ১৩ জুন শুরু হওয়া হামলার প্রথম দিনেই ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গুরুতর ক্ষতি হয়, যার ফলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে। যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত ইসরায়েল প্রায় ৯০০টি স্থাপনায় আঘাত হানে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রও রয়েছে।
সেই কর্মকর্তার ভাষায়, “আমরা ইরানের ৯০ শতাংশ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা ধ্বংস করেছি। এর ফলে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ অনেকটাই প্রতিহত হয়েছে।”
এদিকে, মার্কিন স্বাধীন গবেষক ডেকার ইভিলেথ, যিনি স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে থাকেন, বলেন, ইরান মাত্র ৩০টি ক্ষেপণাস্ত্র তেল আবিবের আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে পাঠাতে পেরেছে। তবে এগুলোর মধ্যে অল্প কয়েকটি সামরিক স্থাপনায় লক্ষ্যভেদ করেছে। তাঁর মতে, ইরান এখনো সঠিকভাবে নিশানা বসাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারেনি।
অন্যদিকে, ইরানও চুপ করে থাকেনি। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (IRGC) ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানে। ইরান দাবি করেছে, এই পাল্টা হামলার মাধ্যমেই তারা ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করেছে।
তেহরান জানায়, ইসরায়েলের হামলায় ৬২৭ জন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে দেশটির পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, ইরানের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয়েছে ২৮ জন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি আপাতত শান্তি বয়ে আনলেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই বিরতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।





