বিএনপি নেতা প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (পশ্চিমাঞ্চল) সারজিস আলম। সোমবার (১৯ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ইশরাকের রাজনৈতিক নৈতিকতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং একটি আলোচিত ঘটনার উল্লেখ করেন, যেখানে ইশরাক নিজে পুলিশের হাত থেকে তার এক কর্মীকে ‘উদ্ধার’ করেন।

\r\n

সারজিস আলম লেখেন, “ইশরাক ভাইকে আমি চিনতাম সাদেক হোসেন খোকার ছেলে হিসেবে। কিন্তু যেদিন তিনি হাসিনার পুলিশের হাত থেকে বুক চিতিয়ে নিজের কর্মীকে ছিনিয়ে আনলেন, সেদিন থেকে তাকে একজন সত্যিকারের রাজনীতিবিদ হিসেবে চিনি। বিভিন্ন আলোচনায় তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয়েছে এবং কখনোই তাকে গতানুগতিক রাজনীতিক মনে হয়নি।”

\r\n

স্ট্যাটাসে সারজিস দাবি করেন, ইশরাক অনেক সময় সত্য স্বীকার করেছেন, এমনকি দলের অবস্থানের সঙ্গেও তার বক্তব্য না মিললেও। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের রাজনীতিকদের প্রতি জনগণের যে প্রত্যাশা, ইশরাক তাদের অন্যতম প্রতিনিধি।

\r\n

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয়লাভের পরেও শপথ না নেওয়া প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, “বিএনপি বারবার বলেছে, বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচনসহ অন্যান্য স্থানীয় নির্বাচন ছিল একপাক্ষিক, প্রশ্নবিদ্ধ ও অবৈধ। সেই নির্বাচনের মেয়র পদ গ্রহণ করলে, সে নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হয়। সাময়িক ক্ষমতা, সুযোগ-সুবিধা ও চেয়ারের লোভে যদি ইশরাক ভাই এমন সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি কালো দাগ হয়ে থাকবে।”

\r\n

তিনি আরও লেখেন, “আমি বিশ্বাস করি, তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা দিয়ে তিনি ভবিষ্যতে বড় মাইলফলক ছুঁতে পারবেন। কিন্তু এখন যদি তিনি 'অবৈধ' নির্বাচনের বৈধতা দেন, তাহলে তা হবে ইতিহাসের কাছে একটি রাজনৈতিক দায়।”

\r\n

সারজিস আলম তার স্ট্যাটাসে দলের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের প্রতি ইশরাকপন্থী কর্মীদের ‘ব্যক্তিগত আক্রমণ’ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “ইশরাক ভাই সরাসরি না করলেও, তার কিছু কর্মী সামাজিক মাধ্যমে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের নামে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে। এটি রাজনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। এ দায় পরোক্ষভাবে তিনিও এড়াতে পারেন না।”

\r\n

সারজিস বলেন, “যারা আগামী প্রজন্মকে পথ দেখাবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি, তারা যদি নিজেদের জনপ্রিয়তাকে অবৈধ নির্বাচনের বৈধতা দিতে ব্যবহার করেন, তাহলে তা হবে জাতির জন্য ভয়াবহ বার্তা। সাদেক হোসেন খোকার উত্তরসূরি হিসেবে ইশরাক ভাইয়ের কাছ থেকে আমরা আরও নৈতিক, আপোষহীন অবস্থান প্রত্যাশা করি।”

\r\n

তিনি শেষ করেন এই বলে, “রাজনৈতিক দীর্ঘ পথে শুরুতেই যদি ক্ষমতার বিনিময়ে নীতির সঙ্গে আপোষ হয়, তাহলে তা শুধু তার ক্যারিয়ার নয়, দেশের রাজনীতির দিকনির্দেশনাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলবে।”