ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহতদের জন্য শোক প্রকাশ করেছেন পোপ লিও। ভ্যাটিকান নিউজের বরাতে আলজাজিরা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি বোমা হামলায় নিহতদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন।


\r\n

পোপ লিও বলেন, নিহতদের মধ্যে অনেক নিরীহ মানুষ রয়েছেন, বিশেষ করে বহু শিশু। এছাড়া আহতদের সাহায্যে এগিয়ে যাওয়া ব্যক্তিরাও মারা গেছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি মারোনাইট যাজক ফাদার পিয়েরে এল-রাহির কথা উল্লেখ করেন, যিনি সোমবার লেবাননের ক্লাইয়া এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। স্থানীয় একটি পরিবারের বাড়িতে গোলাবর্ষণের পর তাদের সাহায্য করতে গিয়ে ফাদার এল-রাহি ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলায় নিহত হন।


\r\n

পোপ প্রার্থনা করেছেন, যত দ্রুত সম্ভব সব ধরনের শত্রুতা বন্ধ হোক।


\r\n

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হয়েছে। ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি, ড্রোন কারখানা, নৌঘাঁটি ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা ইতোমধ্যেই হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে এবং ইরানের বহু ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে।


\r\n

ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থানে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ১৫০ জন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার আহত হয়েছেন।


\r\n

সংঘাতটি এখন শুধু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব হামলা প্রতিরোধ করা হলেও অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা তীব্র হচ্ছে।


\r\n

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ইরানের সামরিক সক্ষমতা এবং সম্ভাব্য পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা। তবে একই সঙ্গে কিছুবার সামরিক অভিযান দ্রুত শেষ হবে বলে বলা হলেও বড় ধরনের অভিযানের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।


\r\n

সব মিলিয়ে সংঘাত এখনও সক্রিয়। আকাশপথে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্য দিয়ে যুদ্ধ চলছে। যদিও স্থলযুদ্ধ এখনও শুরু হয়নি, তবু সংঘাত ইতিমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে ছড়িয়ে পড়ায় এটি বৃহৎ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।