ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত হামলায় আরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত শনিবার (২৮ জুন) একদিনেই নিহত হয়েছেন অন্তত ৮১ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন ৪০০ জনেরও বেশি।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, চলমান সংঘাতের ২১ মাসে গাজায় নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫৬ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং গাজার আল-শিফা হাসপাতালের এক কর্মী জানান, একটি স্টেডিয়ামের পাশে বোমা হামলায় শিশুসহ অন্তত ১১ জন প্রাণ হারান। উক্ত স্টেডিয়ামটি বাস্তুচ্যুত মানুষদের অস্থায়ী আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, স্থানীয়রা খালি হাতে এবং কোদাল দিয়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছেন।
গাজার আল-মাওয়ারি এলাকায় একটি আবাসিক ভবন এবং আশপাশের তাবুতে চালানো আরেকটি হামলায় শিশুসহ আরও ১৪ জন নিহত হন। জাফা স্কুলের পাশের তুফাহ এলাকায় বিমান হামলায় অন্তত আরও ৮ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, অনেক এলাকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্স ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা আহত ও আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। ধ্বংসস্তূপ ও বিধ্বস্ত সড়কের কারণে উদ্ধারকাজে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে।
গত মার্চে ইসরায়েল গাজায় নতুন করে হামলা শুরু করে, যা জানুয়ারি মাসে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপেও পৌঁছাতে পারেনি। ওই চুক্তির অধীনে বন্দিবিনিময় ও ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, তা বাস্তবায়ন হয়নি।
তবে সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই গাজায় যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্যে নতুন আশার আলো দেখছে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। তাদের বিশ্বাস, যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক চাপে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে—যেমনটি সম্প্রতি ইসরায়েল-ইরানের ১২ দিনের সংঘাত শেষে দেখা গেছে। সূত্র: বিবিসি





