ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, ইসরায়েলকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতেই যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধের মধ্যে প্রবেশ করেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

খামেনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র মনে করেছিল, যদি তারা সরাসরি যুদ্ধে না নামে, তাহলে জায়নিস্ট শাসনব্যবস্থা (ইসরায়েল) সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাবে।”

গত ২৪ জুন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও খামেনি এতদিন এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এই বার্তায় তিনি আরও দাবি করেন, “যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে কোনো সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বরং ইরান বিজয়ী হয়েছে এবং আমেরিকার মুখে একটি কঠিন থাপ্পড় দিয়েছে।”

তিনি বলেন, “ইসলামী প্রজাতন্ত্রের আঘাতে ইসরায়েল তাদের সব অহংকার ও দাবির মুখে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে পড়েছে। তারা এখন নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি ঢাকতে চায়।”

পৃথক একটি ভিডিওবার্তায় খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেন, “আমেরিকা ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর বিরুদ্ধে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, তার বর্ণনা অস্বাভাবিকভাবে অতিরঞ্জিত। সত্যকে বিকৃত করতেই এই প্রচেষ্টা।”

খামেনি আরও দাবি করেন, “মার্কিন সামরিক পদক্ষেপ কখনই পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ ইস্যু নিয়ে ছিল না, বরং তাদের আসল উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে আত্মসমর্পণ করানো।”

তিনি বলেন, “আমরা এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত করেছি। কিন্তু তারা সেটিকে তুচ্ছভাবে তুলে ধরছে।”

বার্তার একপর্যায়ে ইরানি জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে খামেনি বলেন, “ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আমাদের বিজয়ের পেছনে দেশের ৯ কোটি মানুষের ঐক্য কাজ করেছে। ইরানি জাতি আমাদের বীর সেনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের সাহস জুগিয়েছে।” সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, বিবিসি