সুদের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে বহুবার সতর্ক করা হয়েছে। পার্থিব ও অপার্থিব—দুই দিক থেকেই সুদের ভয়াবহতা অত্যন্ত গুরুতর। সমাজে এর প্রভাব দেখা যায় অর্থনৈতিক বৈষম্য, চারিত্রিক অবক্ষয় এবং মানবিক মূল্যবোধের হ্রাসে। ইসলামে সুদকে শুধু নিষিদ্ধই নয়, বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুদপ্রথা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ধ্বংসাত্মক। এটি গরিবদের আরও গরিব এবং ধনীদের আরও ধনী করে তোলে। ফলে সমাজে বৈষম্য বাড়ে, বাড়ে হিংসা ও অপরাধপ্রবণতা।
জানা গেছে, সুদে লেনদেনকারীদের আত্মিক ও নৈতিক অবক্ষয় ঘটে। দয়া, করুণা, সহযোগিতার বদলে চলে আসে কৃপণতা, অহংকার ও ভোগবিলাস। এমনকি দোয়া কবুল না হওয়ার কারণও হতে পারে সুদের অর্থ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সুদের ফলে দ্রব্যমূল্য বাড়ে, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যায় এবং গরিব মানুষ ঋণের চাপে পড়ে নিঃস্ব হয়ে যায়। সেই সঙ্গে করজে হাসানা বা বিনা সুদে সহযোগিতার মনোভাব কমে যায়, যা সমাজে মানবিক সংকট সৃষ্টি করে।
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে সুদের মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ হারাম এবং তার পরিণতি ভয়াবহ। কোরআনে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে, সুদ সম্পদের বরকত নষ্ট করে, কল্যাণের দরজা বন্ধ করে দেয় এবং আসমানি শাস্তি ডেকে আনে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদমুক্ত সমাজ গড়তে হলে সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা এবং বিকল্প অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। এজন্য ইসলামিক ব্যাংকিংসহ শরিয়াভিত্তিক অর্থনৈতিক কাঠামো শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
সর্বোপরি, মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা—তিনি যেন আমাদের সুদের মতো ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও নৈতিক বিপদ থেকে হেফাজত করেন।





