হাইকোর্টের রায়ের আলোকে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা।
রবিবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের পরে তারা জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। এরপর দুপুর ১২টায় একই দাবিতে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে আরও একটি মানববন্ধন হয়, এবং কর্মচারীরা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, রাজশাহী ওয়াসার তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর অস্থায়ী ও মাস্টার রোলভুক্ত প্রায় ১৪৯ জন কর্মচারী দীর্ঘ ২০–২৫ বছর ধরে চাকরিতে রয়েছেন। সিটি কর্পোরেশন থেকে ওয়াসায় হস্তান্তরের পর ১৫৭টি পদ সৃষ্টির পরও ১২২ জন কর্মচারীর স্থায়ীকরণের বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন আবেদন করা হলেও কোনো সমাধান না পেয়ে তারা হাইকোর্টে রিট (নং-৬০১৯/২০১৫) দায়ের করেন। ২০২৩ সালের ১৫ মে হাইকোর্ট নয়টি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে রায় দেন। এর পর তিনটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীকে স্থায়ীকরণ দেওয়া হয়।
খুলনা ওয়াসার বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের অফিস আদেশ অনুযায়ী অস্থায়ী কর্মচারীদের স্থায়ীকরণের উদাহরণও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে রায় বাস্তবায়িত না হওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলন বা কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবেন।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী ওয়াসা কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি সফিকুল আলম। সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন কাজল। অন্যান্য ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। কর্মচারীরা দ্রুত হাইকোর্টের রায়ের আলোকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে স্থায়ীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।





