জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সদস্যসচিব আরিফ সোহেল জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগ করেছেন। এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিবের পদে থাকা এই তরুণ নেতা ফেসবুকে প্রকাশিত এক দীর্ঘ বিবৃতিতে তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বিবৃতিতে তিনি এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক গতিপথ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং গণমানুষের প্রকৃত গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের লড়াই চালিয়ে যেতে প্রথাগত রাজনীতির বাইরে থেকে পুনরায় জনগণের কাতারে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে আরিফ সোহেল আজকের পত্রিকাকে জানান, তিনি ইতিমধ্যেই এনসিপি নেতৃবৃন্দকে মৌখিকভাবে পদত্যাগের কথা জানিয়েছেন এবং খুব শিগগিরই পদত্যাগপত্র জমা দেবেন।
২০১৭ সাল থেকে বিপ্লবী ধারণা নিয়ে একটি গ্রুপে যুক্ত হয়ে রাজনৈতিক যাত্রা শুরু করেন আরিফ সোহেল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন তিনি ‘বৈপ্লবিক’ রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি ‘রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’ এবং পরবর্তীতে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি’র প্রতিষ্ঠাতাদের একজন ছিলেন। জুলাইয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলন যখন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়, তখন তিনি এবং তার সহযোদ্ধারা নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
আরিফ সোহেল তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট একটি পূর্ণাঙ্গ সশস্ত্র গণতান্ত্রিক বিপ্লবের সুযোগ থাকলেও আমলাতন্ত্র ও বৈদেশিক শক্তির ষড়যন্ত্রে পরিস্থিতি ‘নেগোশিয়েটেড সেটেলমেন্ট’ বা আপসরফার দিকে গড়ে ওঠে।
পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে তিনি এনসিপির বর্তমান অবস্থানকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের রক্তক্ষয়ী গণসংগ্রামের ফলস্বরূপ উদ্ভূত নতুন গণরাজনীতি ও তৃতীয় শক্তিকে জাতীয় নাগরিক কমিটির বাতাবরণে সংগঠিত করা সম্ভব হয়নি।”
তাঁর মতে, জুলাই অভ্যুত্থানের ফলে যে ‘রাজনৈতিক জনগোষ্ঠী’ তৈরি হয়েছিল, সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এনসিপি ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে বিভাজন ফিরে এসেছে এবং ফ্যাসিবাদের দোসররা রাষ্ট্রকে পুনরায় গণবিরোধী করার সুযোগ পাচ্ছে।
পুরোনো ধারার দলগুলোর কঠোর সমালোচনা করে আরিফ সোহেল বলেন, “প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ক্ষমতার কুরসিই প্রধান। রাষ্ট্রের চরিত্র যত গণবিরোধীই হোক না কেন, তাতে এদের কিছু আসে যায় না।” তিনি আরও যোগ করেন, জাতীয় নাগরিক কমিটি বর্তমানে প্রতিষ্ঠিত পুরোনো দলগুলোর সঙ্গে আপসরফা করে পুরনো ক্ষমতার রাজনীতিতে প্রবেশ করতে বাধ্য হয়েছে, যা জুলাইয়ের গণশক্তির আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।
পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে তিনি তার পূর্বতন সহকর্মীদের প্রতি শুভকামনা জানিয়েছেন। তবে স্পষ্ট করেছেন, গণমানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে তিনি ও তার কমরেডরা এখন প্রথাগত সাংগঠনিক কাঠামোর বাইরে থেকে সরাসরি সাধারণ মানুষের পক্ষে কাজ করবেন।
বিবৃতির শেষে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও শুভেচ্ছা কামনা করে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগানে তার বক্তব্য শেষ করেছেন।





