সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং এলাকায় সরকারি পাথর কোয়ারি থেকে দুই রাতে প্রায় ৫০ হাজার ঘনফুট পাথর লুটের ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্ত হিসেবে ১ থেকে দেড়শ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

গত ১৮ আগস্ট গোয়াইনঘাট থানায় মামলাটি দায়ের করেন স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আব্দুল মুনায়েম। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার তোফায়েল আহমদ।

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৭ ও ৯ আগস্ট রাত ১টা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে জাফলংয়ের গেজেটভুক্ত সরকারি কোয়ারি এলাকা থেকে একটি সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে বিশাল পরিমাণ পাথর সরিয়ে নেয়। প্রায় ৫০ থেকে ৬০টি নৌকা ব্যবহার করে এই অপারেশন চালানো হয়, যাতে জড়িত ছিল ১০০ থেকে ১৫০ জন।

পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির কয়েকজন সদস্যকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। বাকি আসামিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ, তবে তদন্তের স্বার্থে কারও নাম প্রকাশ করা হয়নি।

এ বিষয়ে ওসি তোফায়েল আহমদ বলেন, \"জাফলংয়ে পাথর লুটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা তদন্ত করছি এবং আসামিদের শনাক্তে কাজ চলছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।\"

এদিকে, কয়েকদিন আগেই একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ এলাকায়। সেখানেও অজ্ঞাত ১,০০০ থেকে ১,৫০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সারা দেশে ৫১টি অনুমোদিত পাথর ও বালু উত্তোলন এলাকা রয়েছে, যার মধ্যে সিলেট বিভাগেই রয়েছে আটটি পাথর কোয়ারি। তবে পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কায় ২০২০ সালের পর এসব কোয়ারির ইজারা স্থগিত রয়েছে। ফলে ইজারাবিহীন কোয়ারিগুলোতে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে পাথর তোলার ঘটনা বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, রাজনৈতিক প্রভাবশালী মহল এবং ব্যবসায়ীদের চাপে পুনরায় ইজারা চালুর চেষ্টা হলেও সরকার এখনো অনুমতি দেয়নি। এর মধ্যে সম্প্রতি সরকারি নজরদারি শিথিল হওয়ার সুযোগে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কোয়ারি এলাকা থেকে পাথর লুট চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।