জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ছয়টি সংস্কার কমিশনের মধ্যে পাঁচটির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মোট ৫৮৭টি সুপারিশের মধ্যে ৪৩৬টি সুপারিশে একমত হয়েছে বিএনপি। এছাড়া আরও ২৮টি সুপারিশে দলটি আংশিকভাবে একমত পোষণ করেছে।


বিএনপি সূত্র জানায়, দুদক সংস্কার কমিশনের ৪৭টি সুপারিশের মধ্যে ৪৬টিতে, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২০৮টির মধ্যে ১৮৭টিতে, বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের ৮৯টির মধ্যে ৬২টিতে এবং নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার কমিশনের ২৪৩টির মধ্যে ১৪১টিতে বিএনপি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে।



সংবিধান সংস্কার কমিশনের ১৩১টি প্রস্তাবের মধ্যে অধিকাংশেই একমত হয়েছে বিএনপি। দলটি ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ নির্ধারণ, প্রধান বিচারপতি নিয়োগে পরিবর্তন, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে দেওয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোতে সম্মতি দিয়েছে। বিশেষ করে, বিশ্বে নজির না থাকলেও প্রধানমন্ত্রী পদে ১০ বছরের সীমা নির্ধারণে বিএনপি সম্মত হয়েছে।



একমাত্র পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ এখনো চূড়ান্ত আলোচনায় আসেনি। তবে বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, কমিশনের প্রস্তাবে র‍্যাব বিলুপ্তির বিষয়সহ বেশিরভাগ সুপারিশেই ঐকমত্য গড়ে উঠেছে।



জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের পাঁচটি প্রস্তাবে বিএনপি ভিন্নমত পোষণ করেছে এবং ১১টি প্রস্তাবে একমত হতে পারেনি। এসব প্রস্তাবের মধ্যে প্রদেশ গঠন ও প্রশাসনিক পদোন্নতির মতো বিষয় রয়েছে। বিচার বিভাগের ১৮টি প্রস্তাবে দলটি যুক্তিসহ ভিন্নমত দিয়েছে। নির্বাচন সংস্কার কমিশনের ২৪টি প্রস্তাবে বিএনপি একমত হয়নি; এর মধ্যে ১২টি আইন ও ৬টি নীতিমালা সংক্রান্ত।


বিএনপি মনে করে, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নযোগ্য নয় অথবা সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে পারে।



দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, বিএনপি শুধুমাত্র দলীয় অবস্থানে অনড় না থেকে রাষ্ট্র পরিচালনায় যুক্তিসঙ্গত মতামত দিয়েছে এবং ঐকমত্য গঠনে সহযোগিতা করছে। তারা অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল একমত হওয়ার পরও নতুন নতুন প্রস্তাব দিয়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি করছে।



বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সংসদ ও সরকারকে দুর্বল করার প্রস্তাব সংস্কারের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অতিরিক্ত ক্ষমতা যেমন ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়, তেমনি সংসদ ও সরকারকে ক্ষমতাহীন করাও রাষ্ট্রকে ভঙ্গুর করে।”


তিনি আরও বলেন, “আমরা যেন ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থ নয়, বরং মহান মুক্তিযুদ্ধ, ’৯০-এর গণ-আন্দোলন ও ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনায় একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে এই সুযোগকে কাজে লাগাই।”



সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমরা স্পষ্ট বলেছি, কোনো ব্যক্তি যেন ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী না থাকেন। তবে নির্বাহী কার্যক্রমের ভারসাম্য রাখতে আমরা ‘জাতীয় ঐকমত্য কাউন্সিল’ বা অন্য কোনো বিকল্প কাঠামোর ধারণায় একমত হইনি।”


নজরুল ইসলাম খান বলেন, “জুলাই সনদ অনুযায়ী আমরা অনেক আগেই মতামত দিয়েছি। যারা কাজ করছে না, তাদের দায় বিএনপির নয়।”