ChatGPT said:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ (এবি) পার্টি রাজনৈতিক বিবাদমান পক্ষগুলোকে আহবান জানিয়েছে, তারা অহমিকা এবং তর্ক-বিতর্ক পরিহার করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ কার্যকর করতে একমত হোক। পার্টি চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সতর্ক করেছেন, যদি ঐকমত্যে পৌঁছানো না যায়, তাহলে নির্বাচন অনিশ্চিত হয়ে পড়বে এবং ড. ইউনূসকে পদত্যাগ করতে হতে পারে। এছাড়া সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভয়াবহ জটিল হয়ে উঠার সম্ভাবনাও রয়েছে।


বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর বিজয় নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে মঞ্জু এসব মন্তব্য করেন। তিনি জানান, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অন্তর্র্বর্তী সরকারের কাছে গত মঙ্গলবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ জমা দিয়েছে। সুপারিশে অন্তর্র্বর্তী সরকারকে নির্বাহী আদেশ জারির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন পর্যন্ত যে কোনো সময়ে গণভোট আয়োজনের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া সংসদের প্রথম ৯ মাসে (২৭০ দিন) সংবিধান সংস্কার পরিষদ সংবিধান সংশোধনের কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে, প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথাও সুপারিশে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


সুপারিশ অনুযায়ী, সনদের বাস্তবায়ন তিন ভাগে সম্পন্ন হবে—প্রথমে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি হবে; দ্বিতীয়ত, আদেশের বিষয়ে গণভোট আয়োজন করা হবে; এবং তৃতীয়ত, আগামী জাতীয় সংসদকে দ্বৈত ক্ষমতা (সংবিধান সংস্কার পরিষদ ও সংসদ) দিয়ে প্রস্তাবগুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার দায়িত্ব দেওয়া হবে।


মঞ্জু জানান, সংবিধান সংশ্লিষ্ট নয় এমন বিষয়গুলো সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে পারবে। কমিশন সুপারিশে প্রথম দুই ভাগ দ্রুত কার্যকর করার পরামর্শ দিয়েছে। সংবিধান সংশ্লিষ্ট ৪৮টি বিষয় নিয়ে দুটি বিকল্প প্রস্তাব তৈরি হয়েছে। বিকল্প প্রথমে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ জারি করা হবে, আদেশ অনুযায়ী প্রস্তাবগুলো গণভোটে দেওয়া হবে, এবং পরবর্তী নির্বাচিত জাতীয় সংসদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে। বিকল্প দ্বিতীয় প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অন্তর্র্বর্তী সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া বিল গণভোটে দেবে এবং অনুমোদন পাওয়া বিলকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হলে বিলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হবে।


গণভোটের দিন নির্ধারণ সরকারের উপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মঞ্জু আশা প্রকাশ করেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠিত হলে রাজনৈতিক দলগুলো তা মেনে নেবে। গণভোটে ‘হ্যা’ ভোটের মাধ্যমে নাগরিকরা জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নের প্রতি সমর্থন জানাবে এবং নোট অব ডিসেন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত হবে। তবে যারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন, তারা জাতীয় স্বার্থের বিবেচনায় তা কাটছাঁট করে সমঝোতার মাধ্যমে প্রত্যাহার করবে।


মঞ্জু বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি ঐতিহাসিক রাজনৈতিক দলিল। সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো সুদীর্ঘ আলোচনা শেষে চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে বেশি সময় লাগবে না। তিনি পুনরায় আহ্বান জানান, বিবাদমান পক্ষগুলো অহংকার ও তর্ক-বিতর্ক পরিহার করে ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ’ কার্যকর করার জন্য একমত হোক, নয়তো নির্বাচনের অনিশ্চয়তা ও জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।


সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আনোয়ার সাদাত টুটুল, ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, এবিএম খালিদ হাসান, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।