ওজন কমানো নিয়ে চারদিকে এত তথ্য ও মতামত ছড়িয়ে আছে যে, কোনটি সত্য আর কোনটি ভুল-তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। কেউ বলেন নাশতা বাদ দিলেই মেদ ঝরবে, কেউ আবার নির্দিষ্ট কিছু খাবারকে ‘ফ্যাট গলানো’ উপাদান হিসেবে প্রচার করেন। পাশাপাশি সাপ্লিমেন্ট, লো-ফ্যাট খাবার ও নানা ধরনের ফ্যাড ডায়েট দ্রুত ফলের প্রতিশ্রুতি দেয়।

কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ধারণার অনেকটাই বিভ্রান্তিকর বা অতিরঞ্জিত। সহজ ভাষায় ওজন কমানো নিয়ে প্রচলিত কয়েকটি ভুল ধারণা তুলে ধরা হলো।

নাশতা বাদ দিলে ওজন কমে :

নাশতা না খেলে ক্যালরি কম খাওয়া হবে-এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত নাশতা বাদ দিলে কোমরের মাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
যদিও কারও ক্ষেত্রে নাশতা না খেলেও সমস্যা নাও হতে পারে, তবে এটি সবার জন্য কার্যকর-এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই।

কিছু খাবার খেলেই ফ্যাট গলে যায় :

আনারস, আদা, রসুন বা গ্রিন টিকে অনেক সময় ‘ফ্যাট বার্নার’ বলা হয়। বাস্তবে এমন কোনো খাবার নেই, যা একা একা শরীরের চর্বি গলিয়ে দিতে পারে। এগুলো স্বাস্থ্যকর হলেও অলৌকিক কোনো সমাধান নয়।

ওজন কমানোর সাপ্লিমেন্ট কার্যকর :

বাজারে প্রচলিত অনেক ওজন কমানোর সাপ্লিমেন্টের কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। বরং কিছু সাপ্লিমেন্ট স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শুধু সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ।

কম ফ্যাট খাবার মানেই স্বাস্থ্যকর :

খাবারে ‘লো-ফ্যাট’ লেখা থাকলেই তা স্বাস্থ্যকর-এমন ধারণা ভুল। অনেক ক্ষেত্রে ফ্যাট কমাতে গিয়ে চিনি বা লবণের পরিমাণ বাড়ানো হয়। তাই খাবার কেনার সময় লেবেল ভালোভাবে পড়া জরুরি।

স্ন্যাক খাওয়া একেবারে নিষেধ :

সব ধরনের স্ন্যাক ক্ষতিকর নয়। ফল, বাদাম বা কম চর্বিযুক্ত দই স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক হতে পারে। সমস্যা হয় তখনই, যখন ক্ষুধা না থাকলেও অভ্যাস বা বোরডম থেকে অস্বাস্থ্যকর স্ন্যাক খাওয়া হয়।

প্রাকৃতিক চিনি ভালো, সাদা চিনি খারাপ :

মধু, গুড় বা ম্যাপল সিরাপ-সব ধরনের চিনি শরীরে গিয়ে শেষ পর্যন্ত গ্লুকোজে রূপ নেয়। চিনি যেখান থেকেই আসুক, অতিরিক্ত গ্রহণ ক্ষতিকর।

ওজন কমাতে চিনি একেবারে বাদ দিতে হবে :

চিনি কমানো ভালো, তবে একেবারে বাদ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। পরিমিত পরিমাণে গ্রহণই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনি যুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা উচিত।

কৃত্রিম মিষ্টি সবসময় ভালো বিকল্প :

চিনি কমাতে অনেকে কৃত্রিম মিষ্টির ওপর ভরসা করেন। এতে ক্যালরি কম হলেও কিছু গবেষণায় দীর্ঘমেয়াদে ওজন বাড়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

পেট বা থাইয়ের চর্বি আলাদা করে কমানো যায় :

শরীরের নির্দিষ্ট অংশ থেকে শুধু চর্বি কমানো সম্ভব নয়। ওজন কমলে পুরো শরীর থেকেই চর্বি কমে। তবে নির্দিষ্ট অংশের ব্যায়াম করলে সেই জায়গার পেশি শক্ত ও আকর্ষণীয় হয়।

ফ্যাড ডায়েট খুব কার্যকর :

হঠাৎ জনপ্রিয় হওয়া ডায়েটগুলো বেশিরভাগ সময় দীর্ঘমেয়াদে কাজ করে না। অনেক ক্ষেত্রে এগুলো শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতিও তৈরি করে।

বাস্তবসম্মত পথই সবচেয়ে নিরাপদ :

ওজন কমানো সহজ নয়। নিয়মিত ব্যায়াম, পরিমিত ও সুষম খাবার এবং ধৈর্য-এই তিনটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়। ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে ওজন কমানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।