রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার এই সফরকে ঘিরে গাজায় নতুন যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। খবর বিবিসির।
বিমানযাত্রার আগে নেতানিয়াহু বলেন, \"আমরা আলোচিত একটি চুক্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি, যা আমাদের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী হতে হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এই আলোচনায় কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে বলে আশা করছি।\"
এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, গাজা সংঘাত অবসানে তিনি ‘অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থানে’ রয়েছেন এবং চলতি সপ্তাহেই একটি চুক্তি হতে পারে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সময় রোববার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কাতারে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। আলোচনায় মার্কিন প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও বন্দিমুক্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে মূল প্রতিবন্ধকতা নিরসন হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এটি নেতানিয়াহুর তৃতীয় মার্কিন সফর হলেও ইরানের পরমাণু স্থাপনায় সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার পর ট্রাম্পের সঙ্গে এটি তার প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এখন আগের চেয়ে বেশি আগ্রহী। ইরানে হামলার পর তিনি ঘরোয়া জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার করেছেন। ফলে গাজায় ইসরায়েলি দখল বজায় রাখতে চাওয়া তার কট্টর ডানপন্থী জোটসঙ্গীদের আপত্তি উপেক্ষা করে নেতানিয়াহু এখন একটি শান্তিচুক্তিতে সম্মত হতে পারেন।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যেতে চায়। এর মধ্যে রয়েছে—ইসরায়েল-সিরিয়া সীমান্ত বিষয়ে আলোচনা, ইসরায়েল-সৌদি আরব সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে নতুন সম্ভাব্য সমঝোতা।





