চোখ ওঠা বা কনজাঙ্কটিভাইটিস মূলত চোখের কনজাঙ্কটিভা, অর্থাৎ চোখের সাদা অংশ ও পাপড়ি ঢেকে থাকা পাতলা ঝিল্লির সংক্রমণের কারণে হয়। এর প্রধান কারণগুলো হলো ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, অ্যালার্জি বা দূষিত পরিবেশ।
প্রধান কারণগুলো:
ভাইরাস: বিশেষ করে অ্যাডিনোভাইরাস। চোখে সংক্রমণ হলে ছোট ছোট দানা বা পিচুটি জমে, চোখ ঝাপসা হয়ে যায়, পানি পড়ে।
ব্যাকটেরিয়া: চোখে লালচে ভাব, ব্যথা ও পিচুটি জমা সাধারণ।
অ্যালার্জি: ধূলা, ফুলের রেণু বা অন্যান্য অ্যালার্জেনের কারণে চোখ চুলকায় ও লাল হয়।
দূষণ: বায়ুদূষণ, ধুলো কণা চোখে প্রবেশ করলে কনজাঙ্কটিভা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
লক্ষণসমূহ:
চোখ লাল বা ফোলা হওয়া
চোখে পানি পড়া
চুলকানি বা জ্বালা
আলোতে তাকাতে কষ্ট
পাপড়ি আঠালো হয়ে যাওয়া বা ময়লা জমা
সংক্রমণ:
সরাসরি চোখের সংস্পর্শে নয়, তবে হাত বা অন্যান্য জিনিসের মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
বাড়িতে রোগীর তোয়ালে, বালিশ, চাদর ও রুমাল ভাগ করা ঠিক নয়।
ঘরে আসার পর সাবান দিয়ে হাত ভালো করে ধোয়া জরুরি।
প্রতিরোধ ও যত্ন:
হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্ন থাকা
আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যক্তিগত জিনিস আলাদা রাখা
ভাইরাসজনিত হলে ভ্যাকসিন বা ওষুধ নেই, শুধু সচেতনতা
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক ড্রপ ব্যবহার
আরামদায়ক ঘরোয়া পদ্ধতি:
চোখে হালকা গরম জলের ঝাপটা দেওয়া
দিনে ৪-৫ বার হালকা লবণমিশ্রিত গরম পানিতে তুলো ভিজিয়ে চোখ পরিষ্কার করা
তুলো দিয়ে চোখের উপর গরম ভাপ দেওয়া
চিকিৎসা না করলে এটি দীর্ঘস্থায়ী হয়ে কনজাঙ্কটিভা বা কর্নিয়ায় ক্ষতি করতে পারে। তাই লক্ষণ দেখলেই দ্রুত চোখের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।





