তুর্কমেনিস্তানের দারভাজা এলাকায় অবস্থিত বিখ্যাত দারভাজা গ্যাস ক্র্যাটার—যা ‘নরকের দরজা’ নামে পরিচিত—এর আগুনের তীব্রতা কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কারাকুম মরুভূমির মাঝে ফুটবল মাঠের মতো বড় এই গর্তটি কয়েক দশক ধরে অবিরাম জ্বলছে। এটি দীর্ঘদিন ধরে পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ এবং গবেষকদের জন্য এক রহস্যময় স্থান হিসেবে পরিচিত।

সাম্প্রতিক ইনফ্রারেড ইমেজিং বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন বছরে আগুনের তাপমাত্রা ৭৫ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের শিখা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ক্যাপটেরিও এ তথ্য জানিয়েছে।

এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। দীর্ঘদিন ধরে তুর্কমেনিস্তান সরকার পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকির কথা বিবেচনায় নিয়ে আগুনটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।

ধারণা করা হয়, ১৯৬০ বা ১৯৭০-এর দশকে সোভিয়েত ভূতাত্ত্বিকরা তেল অনুসন্ধানের সময় দুর্ঘটনাবশত এই গর্তের সৃষ্টি করেন। বিষাক্ত গ্যাসের নিঃসরণ ঠেকাতে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, যা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিভে যাওয়ার কথা থাকলেও তা আজও জ্বলছে।

রাজধানী আশখাবাদ থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই স্থানটি এখনো ভ্রমণপিপাসুদের আকর্ষণ করে। দর্শনার্থীরা গর্তের কাছাকাছি গিয়ে আগুনের তাপ অনুভব করতে পারেন।

তুর্কমেন কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালে গ্যাস উত্তোলনের জন্য ক্র্যাটারের কাছে দুটি কূপ খনন করা হয়েছে, যা আগুনের তীব্রতা কমার একটি কারণ হতে পারে। তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপের আগেই আগুন কমতে শুরু করেছিল।

এদিকে কার্বন ম্যাপার-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই গর্ত থেকে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে প্রায় ১,৩০০ কেজি মিথেন গ্যাস নির্গত হয়েছে, যা জলবায়ুর জন্য উদ্বেগজনক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগুনটি মিথেনকে কার্বন ডাই-অক্সাইডে রূপান্তর করে, যা স্বল্পমেয়াদে জলবায়ুর জন্য তুলনামূলক কম ক্ষতিকর। তবে মিথেনের উপস্থিতি থাকায় আগুনটি পুরোপুরি নিভে যাওয়ার সম্ভাবনা এখনই কম।

সব মিলিয়ে, ‘নরকের দরজা’র আগুন কমে আসা একদিকে স্বস্তির খবর হলেও, এর পেছনের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনো চলছে গবেষণা।