পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি: সমুদ্রসৈকতে আবারও ভেসে এসেছে বিরল প্রজাতির একটি বিশাল আকৃতির মৃত সামুদ্রিক কচ্ছপ। দীর্ঘদিন পর সৈকতে এত বড় আকৃতির কচ্ছপের মৃতদেহ ভেসে আসায় স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুর প্রায় ২টার দিকে কুয়াকাটা সৈকতের পশ্চিম পাশে হোটেল সি ভিউ সংলগ্ন এলাকায় কচ্ছপটির মৃতদেহ ভেসে আসে। পরে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন ‘উপারা’র সদস্য আব্দুল জলিল প্রথম কচ্ছপটি দেখতে পান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কচ্ছপটির ওজন আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ কেজি হতে পারে। চলতি বছরে কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে আসা মৃত কচ্ছপগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ)-এর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম বাচ্চু জানান, মৃত কচ্ছপটির বৈজ্ঞানিক নাম Lepidochelys olivacea (অলিভ রিডলি)। এটি একটি পুরুষ কচ্ছপ এবং বিশ্বব্যাপী বিপন্ন প্রজাতির তালিকাভুক্ত।
তিনি বলেন, বঙ্গোপসাগর উপকূলের কুয়াকাটা এলাকায় বর্ষা মৌসুম শুরু হলে প্রায়ই মৃত কচ্ছপ ভেসে আসার ঘটনা ঘটে। তবে এ ধরনের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক সময় এসব কচ্ছপের শরীর, পিঠ বা লেজে আঘাতের চিহ্ন থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে জেলেদের মাছ ধরার জালে প্যাঁচানো অবস্থায়ও মৃত কচ্ছপ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, মাছ ধরার জালে আটকা পড়া বা বিভিন্ন সরঞ্জামের আঘাতে এসব কচ্ছপের মৃত্যু হতে পারে।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন ‘উপারা’র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, বারবার বিপন্ন প্রজাতির কচ্ছপের মৃতদেহ সৈকতে ভেসে আসা সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। কচ্ছপ সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক বলেন, সৈকতে মৃত কচ্ছপ ভেসে আসার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বন বিভাগের মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, উপকূলীয় এলাকায় মাঝে মধ্যে বিপন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ ভেসে আসার ঘটনা ঘটে। অনেক সময় জেলেদের জালে আটকা পড়া বা আঘাতের কারণে এসব কচ্ছপের মৃত্যু হতে পারে। দুর্গন্ধ ছড়ানো রোধে কচ্ছপটির মৃতদেহ মাটিচাপা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।