জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে দেশে কৃষিজমি দ্রুত কমছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যেই প্রণয়ন করা হচ্ছে ‘ভূমি ব্যবহার ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’।
খসড়া অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া কৃষিজমি অন্য কাজে ব্যবহার করলে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। পাশাপাশি অনধিক দুই বছরের কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
৮০ শতাংশ কৃষিজমি সংরক্ষণের লক্ষ্য
নগরায়ণ, শিল্পায়ন, আবাসন ও অবকাঠামো নির্মাণে কৃষিজমি ক্রমেই হ্রাস পাচ্ছে। ফলে ভূমির শ্রেণি ও প্রকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করা হয়েছে খসড়ায়। এ পরিস্থিতিতে দেশের অন্তত ৮০ শতাংশ কৃষিজমি কৃষিকাজের জন্য সংরক্ষণ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
আসছে ভূমি জোনিং কর্তৃপক্ষ
অধ্যাদেশে একটি নতুন সংস্থা গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে—বাংলাদেশ ভূমি জোনিং ও ভূমি সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি ভূমির প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহারভিত্তিক জোনিং ম্যাপ তৈরি করবে। খসড়ায় কৃষি, কৃষি-মৎস্য, নদী-খাল, জলাশয়, আবাসিক, গ্রামীণ বসতি, শিল্প, পাহাড়-টিলা সহ ১৪টি জোন নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে সরকার নতুন জোনও ঘোষণা করতে পারবে।
কঠোর নিয়ন্ত্রণে কৃষিজমি ব্যবহার
কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কৃষিজমির ব্যবহার বা শ্রেণি পরিবর্তন করা যাবে না। এমনকি এক ফসলি জমিও কেবল কৃষিকাজেই ব্যবহার করতে হবে। তবে জনস্বার্থ ও রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে (যেমন রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কৃষিসংশ্লিষ্ট প্রকল্প) সীমিত পরিসরে ব্যবহার করা যাবে অনুমতির ভিত্তিতে।
আইন ভাঙলে জেল-জরিমানা
খসড়া অনুযায়ী, প্রথমবার অপরাধ করলে অনধিক দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে। কৃষিজমি কোনো কোম্পানি বা ফার্মকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বিক্রি বা ভাড়া দিলে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা দুই বছরের জেল হতে পারে। একই অপরাধ পুনরায় ঘটলে জরিমানা বাড়িয়ে এক কোটি টাকা পর্যন্ত করা হবে। আদালত চাইলে অপরাধে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি জব্দ ও নিলামে বিক্রি এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দিতে পারবে।
একাধিক ফসলি জমি রক্ষায় কঠোরতা
সম্প্রতি কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “কোনো অবস্থাতেই ফসলি জমি নষ্ট করা যাবে না। দুই বা তিন ফসলি জমিতে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।”





