জীবনে অনেক সময় দরিদ্রতা আসে। ইসলাম মনে করিয়ে দেয়, এই অবস্থায় হতাশ না হয়ে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট আমল উল্লেখ রয়েছে।

১. গোনাহ ত্যাগ ও ফরজ ইবাদত পালন
প্রথমে সব ধরনের গোনাহ থেকে বিরত থাকতে হবে এবং ফরজ ইবাদত নিয়মিত পালন করতে হবে। এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন সম্ভব হয়। এরপর দোয়া করা উচিত।

২. দারিদ্র্য নিরসনের দোয়া
কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

“হে আমাদের রব, আসমান থেকে আমাদের প্রতি খাবারসহ দস্তরখান নাজিল করুন, যা আমাদের জন্য আনন্দের কারণ হবে; আমাদের পূর্ববর্তী ও পরবর্তীদের জন্যও। আর আপনার পক্ষ থেকে এক নিদর্শন হবে। এছাড়া আমাদের রিজিক দান করুন, আপনিই শ্রেষ্ঠ রিজিকদাতা।” (সুরা মায়েদা ১১৪)

হাদিসে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, নবীজি (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বেশি বেশি নিম্নোক্ত দোয়া পাঠ করবে, তার দরিদ্রতা দূর হবে:

“হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই দরিদ্রতা, অল্প রিজিক ও অসম্মান থেকে; এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই, কাউকে জুলুম করা বা কারও দ্বারা অত্যাচারিত হওয়া থেকে।” (বুখারি ১৫৪৪)

৩. বেশি বেশি ক্ষমা চাওয়া (ইস্তেগফার)
হাদিসে উল্লেখ রয়েছে, যারা নিয়মিত ইস্তেগফার করবেন, আল্লাহ তাআলা তাদের যাবতীয় বিপদ ও দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দেবেন এবং অকল্পনীয়ভাবে রিজিক দান করবেন। (আবু দাউদ ১৫১৮)

নবীজি (সা.) নিয়মিত ইস্তেগফার পাঠ করতেন। প্রতিদিন ৭০-১০০ বার “আস্তাগফিরুল্লাহ” পাঠ করা বা সাইয়েদুল ইস্তেগফার পড়ার মাধ্যমে এ আমল অনুসরণ করা যেতে পারে।

এই তিনটি আমল—গোনাহ ত্যাগ ও ফরজ ইবাদত, নির্দিষ্ট দোয়া ও ইস্তেগফার—দারিদ্র্য থেকে মুক্তির জন্য সবচেয়ে কার্যকর নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত।