কোরআন আল্লাহর কালাম। কোরআন তিলাওয়াত মানে আল্লাহর সঙ্গে একান্তভাবে কথা বলা। এটি প্রত্যেক মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক পথের দিশা দেয়। নিয়মিত কোরআন পাঠ হৃদয়ে প্রশান্তি আনে, গুনাহ থেকে দূরে রাখে, আল্লাহর রহমতকে আহ্বান করে এবং সেই রহমত নিয়ে ফেরেশতারা মানুষের ঘরে আগমন করে। ইতিহাসে এমন একটি অনন্য ঘটনার নজির পাওয়া যায়। তা উল্লেখ করা হলো।

উসাইদ ইবনে হুদাইর (রা.) থেকে বর্ণিত, একদা রাতে তিনি সুরা বাকারা পাঠ করছিলেন। তখন তার ঘোড়াটি তারই পাশে বাঁধা ছিল। হঠাৎ ঘোড়াটি ভীত হয়ে লাফ দিয়ে উঠল এবং ছোটাছুটি শুরু করল। যখন পাঠ বন্ধ করলেন তখনই ঘোড়াটি শান্ত হলো। পুনরায় যখন পাঠ করলেন ঘোড়াটি পূর্বের মতো আচরণ করল। যখন পাঠ বন্ধ করলেন ঘোড়াটি শান্ত হলো। পুনরায় পাঠ আরম্ভ করলে ঘোড়াটি পূর্বের মতো করতে লাগল। এ সময় তার পুত্র ইয়াহইয়া ঘোড়াটির কাছে ছিল। তার ভয় হচ্ছিল যে, ঘোড়াটি তার পুত্রকে পদদলিত করবে। তখন তিনি পুত্রকে টেনে আনলেন এবং আকাশের দিকে তাকিয়ে কিছু দেখতে পেলেন।

পরদিন সকালে তিনি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে উক্ত ঘটনা ব্যক্ত করলেন। ঘটনা শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, হে ইবনে হুদাইর! তুমি যদি পাঠ করতে, হে ইবনে হুদাইর! তুমি যদি পাঠ করতে! ইবনে হুদাইর আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমার ছেলেটি ঘোড়ার কাছে থাকায় আমি ভয় পেয়ে গেলাম হয়তো বা ঘোড়াটি তাকে পদদলিত করবে। সুতরাং আমি আমার মাথা ওপরে ওঠাতেই মেঘের মতো কিছু দেখলাম, যা আলোকময় ছিল। আমি যখন বাইরে এলাম তখন আর কিছু দেখলাম না। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তুমি কি জানো, তা কী ছিল? তিনি বললেন, না। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, তা ছিল ফেরেশতাদের একটি দল। তোমার তেলাওয়াত শুনে তোমার কাছে এসেছিল। তুমি যদি ভোর পর্যন্ত তেলাওয়াত করতে থাকতে, তারাও ততক্ষণ পর্যন্ত এখানে অবস্থান করত এবং লোকেরা তাদের দেখতে পেত। (সহিহ বুখারি ৫০১৮) এ হাদিস থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শিক্ষা ও উপদেশ পাওয়া যায়।

ঘরে ফেরেশতাদের আগমন : ফেরেশতারা সর্বদা আল্লাহর নির্দেশ পালন করেন। হামদ-ছানায় ব্যস্ত থাকেন। তারা কোরআন তেলাওয়াত শুনতে ভালোবাসেন। যখন কোনো মুমিন মনোযোগ দিয়ে কোরআন পাঠ করে তারা রহমত ও প্রশান্তি নিয়ে তার ঘরে অবতরণ করেন।

নুরানি পরিবেশ সৃষ্টি : কোরআন তেলাওয়াত শুধু পাঠকের অন্তরে নয়, বরং পুরো ঘরে নুর ও প্রশান্তির আবহ তৈরি করে। আল্লাহর রহমত ছড়িয়ে পড়ে পরিবার-পরিজনের সব সদস্যের ওপর। এভাবে তেলাওয়াতের বরকত এক ব্যক্তিকে ছাড়িয়ে পুরো পরিবেশকে নুরানি ছোঁয়ায় আচ্ছন্ন করে ফেলে।

দৈনন্দিন কোরআন তেলাওয়াত : দৈনন্দিন জীবনে ব্যস্ততার কোনো শেষ নেই। এর ভেতরে সময় করে নামাজ-কালাম পড়তে হয়। আমলের পরিবেশ তৈরি করতে হয়। নুরানি পরিবেশ আকাশ থেকে নেমে আসে না। এটি নিজেদেরই তৈরি করতে হয়। তাই প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা অন্তত কিছু সময় কোরআন তেলাওয়াত করা প্রত্যেক মুমিনের জন্য অত্যন্ত জরুরি। মহান আমাদের সবাইকে প্রতিদিন নিয়মিত কোরআন তেলাওয়াত করার তওফিক দান করুন। আমিন।