ক্ষমতায় গেলে কওমি শিক্ষা ব্যবস্থার সিলেবাস পরিমার্জন এবং ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো সরকারি করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ঘোষিত দলটির নির্বাচনী ইশতেহারে এসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

\r\n

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেন।

\r\n

ইশতেহারে বলা হয়েছে, জামায়াত সরকার গঠন করলে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও সরকারি ব্যবস্থাপনায় আনা হবে। পাশাপাশি কওমি শিক্ষা সিলেবাস সময়োপযোগী ও পরিমার্জিত করা হবে।

\r\n

নারীশিক্ষার উন্নয়নেও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে দলটি। ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরা স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি বন্ধ, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত এবং শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়নের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

\r\n

এছাড়া স্নাতক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসার এক লাখ মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রতি মাসে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা করে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

\r\n

ইশতেহারে সরকার পরিচালনার ২৬টি অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে। এর প্রথম অংশে জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, শক্তিশালী ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করা হয়।

\r\n

দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশে আত্মনির্ভর পররাষ্ট্রনীতি, শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সংস্কার, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে।

\r\n

এছাড়া কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের মানোন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং যুবকদের নেতৃত্বে প্রযুক্তি বিপ্লবের রূপরেখাও ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নারী ও শিশু নিরাপত্তা, সমাজকল্যাণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।