রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী ঝুমঝুম ইসলামের মা উম্মে হাবীবা রজনীর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সাদীপুর গ্রামে। মঙ্গলবার সকালে রজনীর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

মঙ্গলবার সকালেই মরদেহ নেওয়া হয় শ্বশুরবাড়ি সাদীপুর গ্রামে। সেখানে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়। নিহত রজনী সাদীপুর গ্রামের গার্মেন্ট ব্যবসায়ী জহুরুল ইসলামের স্ত্রী। তাদের দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে ঝুমঝুম ইসলাম পঞ্চম শ্রেণিতে ও ছেলে ফারহান ইসলাম ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। তারা দুজনেই রাজধানীর উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় মেয়ে ঝুমঝুমকে খুঁজতে ঘটনাস্থলে পৌঁছান রজনী। তখন বিস্ফোরিত বিমানের ধ্বংসাবশেষ তার মাথার পেছনে আঘাত হানে, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। দ্রুত উদ্ধার করে সিএমএইচ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

রজনীর স্বামী জহুরুল ইসলাম বলেন, “আমি চট্টগ্রামে যাচ্ছিলাম। এয়ারপোর্টে থাকতেই দুর্ঘটনার খবর পাই। ঢাকায় ফিরে স্ত্রীর মরদেহ সিএমএইচ হাসপাতালে শনাক্ত করি। আমার মেয়ে ঝুমঝুম মাত্র পাঁচ মিনিট আগেই স্কুলের গাড়ি থেকে নেমেছিল। সেদিন আমার ছেলে অসুস্থ থাকায় স্কুলে যায়নি।”

উল্লেখ্য, সোমবার (২১ জুলাই) দুপুর ১টা ১৮ মিনিটে উত্তরার দিয়াবাড়িতে বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান (F-7 BGI) বিধ্বস্ত হয়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায় বিমান ও ভবনে। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩১ জনে, যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী। আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও অনেকেই।

ঘটনাটি ঘিরে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।