খাদ্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে দ্রুত পণ্য খালাস না করে জাহাজে পণ্য আটকে রাখার অভিযোগে ১৩টি জাহাজের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে নৌপরিবহন অধিদপ্তর। এ পর্যন্ত এসব জাহাজ থেকে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া দুটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর মো. শফিউল বারী। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং যেখানে পণ্য গুদামজাত করা হয়েছে, সেখানে নিয়মিত অভিযান চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বাড়ায় গত জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যবাহী মাদার ভেসেল আসার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে ১১০টি জাহাজ অবস্থান করছে। এর মধ্যে ৩৬টি খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজ এবং ৭৪টি অন্যান্য জাহাজ। গত বছরের রমজান মাসে খাদ্যপণ্যবাহী জাহাজের সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ৪৩টি, কিন্তু এবার জানুয়ারির প্রথমার্ধেই তা দাঁড়িয়েছে ৬১টিতে।
নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, হঠাৎ করে জাহাজের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় লাইটারেজ জাহাজের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে সেই সংকট নেই। দেশে ২ হাজার ২৫৮টি লাইটারেজ জাহাজ অভ্যন্তরীণ নৌপথে পণ্য পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে তিনটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই কার্যক্রমে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সহায়তা করছে। ১৫ জানুয়ারি থেকে নারায়ণগঞ্জ, ঢাকার বিভিন্ন নদী ও চট্টগ্রাম ও যশোরের নদী ঘাটে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।
গত ১৭ দিনে ৪০৯টি লাইটারেজ জাহাজ পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৯২টি জাহাজ ১০ দিনের কম, ৮৭টি ১০ দিনের বেশি এবং ৩০টি ২০ দিনের বেশি সময় ধরে পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল। ১ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন নদীবন্দর পরিদর্শনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ থেকে যশোর পর্যন্ত সব ঘাটে দ্রুতগতিতে পণ্য খালাস হচ্ছে। গত ১৫ দিনে ৭৩৫টি লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ৩০ জানুয়ারি থেকে লাইটারেজ জাহাজ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সফটওয়্যার চালু হয়েছে, যার মাধ্যমে মাদার ভেসেল থেকে পণ্য খালাস ও লাইটারেজ জাহাজ বরাদ্দ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়বে।
তবে অনেক ঘাটে এখনো ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পণ্য খালাস হওয়ায় কিছু বিলম্ব হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে স্বয়ংক্রিয় ক্রেনের মাধ্যমে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা নিতে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নৌপরিবহন অধিদপ্তর জানায়, লাইটারেজ জাহাজের সংকট পুরোপুরি নিরসন না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযান এবং ডিজিটাল তদারকি কার্যক্রম চালু থাকবে।





