দুটি সাজানো মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে কী প্রক্রিয়ায় সাজা দেওয়া হয়েছিল, তাতে সরকারের ও দুদকের কী ভূমিকা ছিল, বিচারকরা কীভাবে রায় দেন—এ সংক্রান্ত কিছু অজানা ও গুরুতর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। ২০০৭ সালের জরুরি সরকার সময়ে বেগম খালেদা জিয়ার নামে নাইকো, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা করা হয়।


\r\n

একই সময়ে সরকারের বিরুদ্ধেও নাইকো, নভোথিয়েটারসহ একাধিক মামলা করা হয়েছিল। তবে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে জয় পেয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ২০০৯ সালে শেখ হাসিনাসহ দলের সকল মামলার প্রক্রিয়া স্থগিত বা খারিজ করা হয়। আইনজীবীরা মনে করেন, রাজনৈতিক হেনস্তার উদ্দেশ্যে সেই সময়ে খালেদা জিয়ার মামলাগুলো সচল রাখা হয়েছিল।

\r\n

এর ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় সাজা দেওয়া হয়। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় হয়। রায়ের আগের দিন, ৭ ফেব্রুয়ারি, খালেদা জিয়া এক সাংবাদিক সম্মেলনে দেশবাসীকে বলেন, “আপনাদের খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করেনি, দুর্নীতি করেনি। ট্রাস্টের কোনো টাকা তছরুপ হয়নি। বরং সুদসহ দ্বিগুণ হয়েছে। মিথ্যা মামলায় ন্যায়বিচার হবে, আমি খালাস পাব। আমাকে জেল বা সাজা দেখিয়ে ভয় দেখানো লাভ হবে না।”


\r\n

৮ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার পর বিচারক ড. আক্তারুজ্জামান খালেদা জিয়াকে ৫ বছরের সাজা দেন। মামলার অন্য ৫ জনকে ১০ বছর করে সাজা দেওয়া হয়। রায়ের দিন বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত বিশেষ আদালতে উপস্থিত ছিলেন খালেদা জিয়া। জেলে যাওয়ার আগে তিনি মন্তব্য করেন, “সাজানো রায় দিয়েছে সরকার। দেশবাসী এ অন্যায়ের বিচার করবে।”


\r\n

যথাযথভাবে ৫ বছরের সাজা ১০ বছরে রূপান্তরের বিষয়টি দুদকের টেবিলে তৈরি হয়েছিল। খালেদা জিয়ার পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবীরা উচ্চ আদালতে আপিল করলে, রায়ের আগেই দুদকের টেবিলে সাজা দ্বিগুণ করার স্ক্রিপ্ট তৈরি হয়।


\r\n

দুদকের তৎকালীন মহাপরিচালক (লিগ্যাল) মাইদুল ইসলাম জানান, খুরশিদ আলম দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের কাছে ১০ বছরের সাজা করার আবেদন পাঠান। তখন ধারণা করা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী চান, তাই এটি করা হয়েছে। মাইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি মৌখিকভাবে দ্বিমত প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু চেয়ারম্যানের নির্দেশে বেশি কিছু বলা সম্ভব হয়নি।


\r\n

উল্লেখ্য, হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ বেগম খালেদা জিয়ার আপিল অগ্রাহ্য করে ২০১৮ সালের ৩০ অক্টোবর রায় দেন। অন্যদিকে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের সাজা দেওয়া হয়। বিচারক ড. আক্তারুজ্জামান ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর ভাই আবু বকর সিদ্দিকীর ভায়রা। পরে তিনি হাইকোর্টের বিচারপতি হন।


\r\n

আইনজীবীরা উল্লেখ করেছেন, মিথ্যা ও বানোয়াট দুর্নীতির অভিযোগে খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া হয়েছিল। কিছু বিচারক এই মামলার রায়ের মাধ্যমে সরকারের কাছ থেকে পদোন্নতি ও সুবিধা পান। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, খালেদা জিয়া অত্যন্ত কষ্ট পেতেন তার ও পরিবারের নামে মিথ্যা অভিযোগের কারণে।