চলমান তাপপ্রবাহে শরীর সুস্থ রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো বিশুদ্ধ পানি। মানবদেহের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই পানি দিয়ে গঠিত, আর বয়স, ওজন ও উচ্চতা অনুযায়ী প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি পান করা অত্যাবশ্যক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তৃষ্ণা নিবারণের জন্য ফলের রস, লেবুর শরবত বা কোমল পানীয় নয়—সবচেয়ে উপযোগী হলো ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে পাওয়া বিশুদ্ধ পানি।

বিশুদ্ধ পানির উপযোগিতা ব্যাখ্যা করে চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা জানান, “শরীরের হরমোন, হার্টবিট ও পিএইচ ভারসাম্য ঠিক রাখতে ৭-এর কাছাকাছি পিএইচমান সম্পন্ন পানি প্রয়োজন। বিশুদ্ধ পানির পিএইচ সাধারণত ৭ এবং তাপমাত্রাও শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার কাছাকাছি থাকে, যা মানবদেহের জন্য সবচেয়ে উপযোগী।”

অন্যান্য পানীয় কেন সীমিতভাবে গ্রহণযোগ্য

ফলের রস: উপকারী হলেও একেক ফলের পিএইচ আলাদা। অতিরিক্ত রস পানে শরীরের পিএইচ ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। দিনে একবার ২৫০-৩০০ মিলিলিটার রস পান করা নিরাপদ।

লেবুর শরবত: লেবু অ্যাসিডিক হওয়ায় অতিরিক্ত পান শরীরের ক্ষারীয় ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এক গ্লাস পানিতে এক টুকরো লেবুই যথেষ্ট।

স্যালাইন পানি: এটি মূলত ডায়রিয়া রোগীদের জন্য উপযোগী। পিপাসা মেটাতে স্যালাইন পানি পান করলে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বিঘ্নিত হতে পারে।

ঠান্ডা পানি: ফ্রিজের ঠান্ডা পানি শরীরের তাপমাত্রা ভারসাম্যে বিঘ্ন ঘটায়। তাই ঠান্ডা পানি সরাসরি না খেয়ে স্বাভাবিক পানি মিশিয়ে পান করাই ভালো।

বোতলজাত পানি: রাসায়নিক পরিশোধনের ফলে কিছু প্রয়োজনীয় খনিজ কমে যেতে পারে এবং স্বাদেও পরিবর্তন আসে। তাই এ ধরনের পানির মান নিশ্চিত হওয়া জরুরি।

কোমল পানীয়: এগুলো শরীরের তাপমাত্রা, পিএইচ এবং ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য নষ্ট করে। দীর্ঘমেয়াদে এসব পানীয় স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

বিশুদ্ধ পানি পানের সতর্কতা

বিশুদ্ধ পানি মানেই নিরাপদ নয়। পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি পান করার আগে নিশ্চিত হতে হবে তাতে আর্সেনিক বা আয়রনের মাত্রা অনুমোদিত সীমার মধ্যে রয়েছে কি না। অন্যথায় তা স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হতে পারে। এজন্য পানি পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞের মতে, “পিপাসা নিবারণে অতিরিক্ত পানিও সমস্যার কারণ হতে পারে। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করাই স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।”