শীত আসার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই হাঁটু, কোমর ও অন্যান্য গাঁটে ব্যথা অনুভব করেন। চিকিৎসার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসেও নজর দিলে ব্যথা কিছুটা কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিম্নোক্ত কিছু খাবার নিয়মিত খেলে গাঁটের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

হলুদ ও আদা :
রান্নাঘরের পরিচিত দুই মসলা হলুদ ও আদা প্রাকৃতিক ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করে। হলুদের কারকিউমিন যৌগ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যা আর্থ্রাইটিসজনিত ব্যথা উপশমে কার্যকর। রাতে গরম দুধে এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে খাওয়া এবং প্রতিদিন আদা চা বা রান্নায় আদা ব্যবহার করা উপকারী।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডযুক্ত মাছ :
ওমেগা-৩ শরীরের প্রদাহ কমিয়ে গাঁটের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখে। স্যামন, সার্ডিন, টুনার মতো মাছ খেতে পারেন। দেশীয় বিকল্প হিসেবে ইলিশ, রুই বা কাতলার মাছও উপকারী।

অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ শাকসবজি :
ব্রকলি, পালং শাক, মিষ্টি আলু ও রঙিন শাকসবজি শরীরে ফ্রি র‍্যাডিক্যালের ক্ষতিকর প্রভাব কমায়, যা ব্যথা উপশমে সাহায্য করে।

ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার :
শীতে সূর্যের আলো কম থাকায় ভিটামিন ডি’র ঘাটতি দেখা দিতে পারে, যা হাড় দুর্বল করে। ডিমের কুসুম, ফ্যাটি মাছ, ফর্টিফায়েড দুধ নিয়মিত খাওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। হাড় মজবুত রাখতে দই, ছানা ও পনিরও উপকারী।

অলিভ অয়েল :
এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে থাকা মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ওলিওক্যান্থাল প্রদাহ কমাতে ও ব্যথা উপশমে সাহায্য করে। রান্নায় বা সালাদে অন্য তেলের পরিবর্তে অলিভ অয়েল ব্যবহার করা ভালো।
এই খাবারগুলো নিয়মিত ডায়েটে রাখলে শীতকালে গাঁটের ব্যথা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব এবং হাড় ও শরীরও স্বাস্থ্যকর থাকবে।