গাজায় চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসনের মধ্যে ত্রাণ সহায়তার আড়ালে মরণনেশার মাদক মিশিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইসরাইলি সেনাদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার গাজার সরকারি মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন-ইসরাইলি সহায়তা কেন্দ্র থেকে বিতরণকৃত আটার বস্তাগুলোতে অক্সিকোডন নামের একটি ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী মাদক পাওয়া গেছে। এটি সাধারণত ক্যানসার রোগীদের তীব্র ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত হলেও অতিরিক্ত গ্রহণে এটি আসক্তি সৃষ্টি করে, এমনকি মৃত্যুও ঘটাতে পারে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এখন পর্যন্ত চারজন গাজাবাসী সাক্ষ্য দিয়েছেন, যারা ত্রাণ হিসেবে পাওয়া আটার ভেতরে অক্সিকোডন ট্যাবলেট খুঁজে পেয়েছেন। গাজার কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, কিছু বস্তায় ট্যাবলেটগুলো গুঁড়ো করে মিশিয়ে দেওয়া হতে পারে, যা আরও ভয়াবহ।
গাজার স্থানীয় ফার্মাসিস্ট ওমর হামাদ এই ঘটনাকে ‘গণহত্যার সবচেয়ে ঘৃণ্য রূপ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। আর গাজার চিকিৎসক খালিল মাজেন আবু নাদা সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “এই মাদকের মাধ্যমে আমাদের সমাজকে ভেতর থেকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে।”
ইতোমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে দেখা গেছে, আটার ভেতরে লুকানো রয়েছে মাদক ট্যাবলেট।
গাজার মিডিয়া অফিস এই ঘটনাকে ইসরায়েলি বাহিনীর পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, “ইসরায়েল অবরোধের সুযোগ নিয়ে সহায়তার নামে গাজায় আসছে মৃত্যু ফাঁদ। এসব আসলে কোনো সহায়তা নয়, বরং আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে বিষাক্ত অস্ত্র।”
মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গাজার কর্তৃপক্ষ এই ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: মিডল ইস্ট আই





