ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ফলে গাজা উপত্যকায় অন্তত ৩ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সাম্প্রতিক গবেষণা। নিখোঁজদের অর্ধেকেরও বেশি শিশু বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে আরও দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় গাজায় নিহতের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।


হার্ভার্ড ডেটাভার্সে চলতি জুনে প্রকাশিত গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন ইসরায়েলি অধ্যাপক ইয়াকভ গার্ব। তার নেতৃত্বে তথ্য বিশ্লেষণ ও স্থানিক ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়। গবেষণার সারাংশ তুলে ধরেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরব এবং মিডল ইস্ট মনিটর।


নিহতের সংখ্যা সরকারি হিসাব ছাড়িয়ে যেতে পারে

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলমান ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬১ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে গার্বের গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি হতে পারে।


২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া অভিযান এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে বাধার কারণে গাজার জনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। যুদ্ধের আগে গাজার জনসংখ্যা ছিল আনুমানিক ২২ লাখ ২৭ হাজার। গবেষণায় দেখা যায়, গাজা সিটি, মাওয়াসি ও মধ্য গাজার তিনটি অঞ্চলে বর্তমানে আনুমানিক ১৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষের উপস্থিতি রয়েছে। অর্থাৎ, কমপক্ষে ৩ লাখ ৭৭ হাজার মানুষ নিখোঁজ, যাদের অনেকেই হয়তো নিহত হয়েছেন অথবা কোথাও আশ্রয় নিতে গিয়ে হিসাবের বাইরে রয়েছেন।


গবেষণায় মার্কিন-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) সহায়তা কাঠামোকেও তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে। অধ্যাপক গার্ব দাবি করেছেন, এই কাঠামো মানবিক প্রয়োজনের ভিত্তিতে নয়, বরং ইসরায়েলি সামরিক কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গড়ে তোলা হয়েছে।


স্থানিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, গাজার অধিকাংশ মানুষ সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে পৌঁছাতে পারেননি। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়— ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রিত নেতজারিম করিডোর, দুর্বল অবকাঠামো, যানবাহনের অভাব ও নিরাপদ চলাচলের সুযোগ না থাকা।


গার্ব মন্তব্য করেন, “এই সহায়তা কাঠামো যেন সংঘর্ষ ও দুর্ঘটনার একটি পরিকল্পিত মঞ্চ তৈরি করেছে। ” প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সহায়তা কেন্দ্রগুলোতে একজন ব্যক্তির জন্য গড়ে সাড়ে তিন দিনের খাদ্য বরাদ্দ রাখা হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত সহায়তা না থাকায় গাজাবাসীরা টিকে থাকতে গিয়ে বিপজ্জনকভাবে সামরিক নিষিদ্ধ এলাকাগুলোতে প্রবেশ করতে বাধ্য হচ্ছেন।


সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পাঁচটি সহায়তা কেন্দ্রের মধ্যে চারটিই মোরাগ করিডোরের দক্ষিণে, যেগুলোকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ 'কনসেন্ট্রেশন এলাকা' হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গার্ব এই অবস্থাকে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাজনক দৃষ্টান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।


এছাড়া, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকাও গবেষণায় গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।