যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় হামাসের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় অবরুদ্ধ গাজায় আবারও তীব্রতা বেড়েছে ইসরায়েলি হামলার। সোমবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চালানো হামলায় কমপক্ষে ১৩৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক মানুষ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী এ হামলায় কোনো সতর্কতা ছাড়াই গাজার বিভিন্ন এলাকায় বেসামরিক মানুষের ওপর বোমাবর্ষণ করে। লক্ষ্যবস্তু করা হয় শিশু, নারী, আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষ ও খাদ্যের সন্ধানে বের হওয়া অসহায়দের।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মরদেহ আটকা পড়ে আছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শুধু গত ৪৮ ঘণ্টায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে প্রাণ হারিয়েছেন ২০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি। অন্যদিকে, গাজার মিডিয়া অফিস বলছে, উত্তর গাজার এক হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছে তিন লাখের বেশি মানুষ, যাদের অধিকাংশই গাজা সিটির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে—যেখানে তাদের জন্য নেই প্রয়োজনীয় আশ্রয়ব্যবস্থা।
এই হামলার মধ্য দিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) পরিচালিত ত্রাণকেন্দ্রগুলোর আশপাশে নিহতের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,০০০-তে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, চলমান ২১ মাসের সামরিক অভিযানে গাজায় মোট প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ৫৯ হাজার, আহত হয়েছেন প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার মানুষ।
এর আগে ২০২৪ সালের ১৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গাজায় সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল ইসরায়েল। এরপর দুই মাস খানিক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করলেও মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে হামাসের সঙ্গে মতানৈক্যের জেরে ফের হামলা শুরু করে দখলদার বাহিনী।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ধ্বংস হয়ে গেছে অঞ্চলটির অধিকাংশ অবকাঠামো, আর মানবিক সংকট পৌঁছেছে চরমে।





