হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা কয়েক মুহূর্তেই জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিতে পারে। কোথায় গুলি লেগেছে, কী ধরনের আঘাত হয়েছে এবং কত দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা গেছে—এসব বিষয়ই মূলত জীবন রক্ষার সম্ভাবনা নির্ধারণ করে। তবে সময়মতো সঠিক প্রাথমিক পদক্ষেপ নেওয়া গেলে অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতি কমানো সম্ভব। নিচে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর প্রথম ৩০ মিনিটে কী করতে হবে, তা ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।

\r\n

প্রথমে যা নিশ্চিত করবেন

\r\n

নিরাপদ স্থানে সরান
\r\nগুলি ছোড়ার ঘটনা থামার পর আহত ব্যক্তিকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। হাঁটতে পারলে সহায়তা করুন।

\r\n

অস্ত্র নিরাপদ করুন
\r\nদুর্ঘটনাবশত গুলিবিদ্ধ হয়ে থাকলে অস্ত্র যেন আর কারও ক্ষতি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করুন।

\r\n

জরুরি সেবা ডাকুন
\r\nনিরাপদে পৌঁছে ৯৯৯–এ ফোন করুন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

\r\n
\r\n

রক্তপাত থামানোই সর্ব প্রথম কাজ

\r\n

ক্ষতস্থানে চাপ দিন
\r\nরক্তপাত বন্ধ করতে গুলিবিদ্ধ জায়গায় শক্তভাবে চাপ দিন। রক্তপাত বেশি হলে হাঁটু বা হাত দিয়ে জোরালো চাপও দিতে হতে পারে।

\r\n

ড্রেসিং ব্যবহার করুন
\r\nগজ, তোয়ালে বা পরিষ্কার কাপড় দিয়ে ক্ষত ঢেকে চেপে ধরুন। এতে রক্ত জমাট বাঁধা সহজ হয়।

\r\n

টুর্নিকেট প্রয়োগ (সতর্কভাবে)
\r\nপেশাদার টুর্নিকেট থাকলে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে ভুলভাবে লাগালে ক্ষতি বাড়তে পারে। তাই টুর্নিকেট না থাকলে চাপ দেওয়াই প্রধান উপায়।

\r\n
\r\n

যা করবেন না

\r\n
    \r\n
  • \r\n

    আহত ব্যক্তিকে পানি বা খাবার দেবেন না। এতে শ্বাসনালিতে খাবার ঢুকে বিপদ হতে পারে।

    \r\n
  • \r\n
  • \r\n

    পা বা মাথা উঁচু করবেন না। এতে আভ্যন্তরীণ রক্তপাত বাড়তে পারে।

    \r\n
  • \r\n
  • \r\n

    অচেতন হলে তাকে কাত করে রিকভারি পজিশনে রাখুন।

    \r\n
  • \r\n
\r\n
\r\n

শরীরের কোন স্থানে গুলি লাগলে করণীয়

\r\n

১. বুকে গুলি
\r\nহৃদপিণ্ড বা ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাতাস ঢুকে ফুসফুস বসে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
\r\nএই অবস্থায় ক্ষতটি প্লাস্টিক জাতীয় কিছু দিয়ে সিল করে রাখুন। শ্বাসকষ্ট বাড়লে সিল খুলে দিন।

\r\n

২. পেটে গুলি
\r\nঅন্ত্র বা পাকস্থলী ফুটো হয়ে সংক্রমণ হতে পারে। ক্ষতস্থানে চাপ দিন। পেট ফুলে গেলে অবস্থা আরও গুরুতর হতে পারে। সাধারণত দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়।

\r\n

৩. হাত–পায়ের গুলি
\r\nরক্তনালী বা স্নায়ু কেটে যেতে পারে। আহত অঙ্গ নাড়িয়ে ক্ষতি বাড়াবেন না। রক্তপাত থামানোর ওপর গুরুত্ব দিন।

\r\n

৪. ঘাড় বা মেরুদণ্ডে গুলি
\r\nপক্ষাঘাতের ঝুঁকি থাকে। রোগীকে নড়াচড়া করাবেন না। ঘাড়ের সামনে গুলি হলে রক্তপাত বন্ধে চাপ দিন।

\r\n
\r\n

গুলি কেন ভয়াবহ ক্ষতি করে

\r\n

বুলেট শরীর ভেদ করার সময় শুধু একটি ছিদ্র তৈরি করে না। এটি ভেতরে ঢুকে দিক পরিবর্তন করে, লাফিয়ে এবং ঘুরে বিভিন্ন টিস্যুতে আঘাত করতে পারে। ক্ষতির পরিমাণ নির্ভর করে গুলির গতি, ওজন ও আঘাতের স্থানের ওপর।

\r\n
\r\n

চিকিৎসা ও সুস্থ হতে সময়

\r\n

সহজ ধরনের গুলির ক্ষত ১০ দিনের মধ্যেই সেরে উঠতে পারে। তবে জটিল আঘাত বা অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সুস্থ হতে অনেক সময় লাগে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার মানসিক ধাক্কা থেকেও দীর্ঘমেয়াদে ভয়, দুঃস্বপ্ন, অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

\r\n

এগুলো প্রাথমিক করণীয়। মূল চিকিৎসার জন্য অবশ্যই বিশেষজ্ঞের কাছে যেতে হবে।