গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে নিহত চারজনের একজন সোহেল মোল্লা। নিহতের পরিবার এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না—কোনো রাজনীতিতে সম্পৃক্ত না থাকা একজন সাধারণ ব্যবসায়ী কীভাবে এই সহিংসতার বলি হলেন।
\r\nবৃহস্পতিবার দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরের পূর্ব মিয়াপাড়ায় সোহেল মোল্লার ভাড়া বাসায় দেখা যায়, শোকাচ্ছন্ন পরিবেশ। মায়ের আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। বিলাপ করতে করতে সোহেলের মা লাইলি বেগম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “ওরে বাবারে... তোমরা কেন মাইরা ফেলাইলা? তোমাগোও তো মা আছে, মা কইয়া ডাকো না! আমারে মা কওয়ার আর কেউ রইল না!”
\r\nসোহেল মোল্লা ছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। শহরের চৌরঙ্গীর কেরামত উদ্দিন প্লাজায় তাঁর মোবাইলফোনের দোকান ছিল। বাবা-মা, স্ত্রী এবং দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে শহরের মিয়াপাড়ায় চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় থাকতেন তিনি।
\r\nনিহতের বাবা ইদ্রিস আলী মোল্লা বলেন, “আমার ছেলে কী করেছে? কেন তাকে গুলি করা হলো? সে তো কোনো দলে ছিল না। আমি আমার ছেলের হত্যাকারীদের বিচার চাই।”
\r\nসোহেলের মামা জাহিদুল ইসলাম তালুকদার জানান, বুধবার বিকেলে তিনি মুঠোফোনে খবর পান যে সোহেল গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। তিনি বলেন, এখনো তার ভাগনের ময়নাতদন্ত হয়নি এবং হাসপাতাল থেকে কোনো মৃত্যুসনদ দেওয়া হয়নি।
\r\nপরিবারের সদস্যরা জানান, সংঘর্ষের সময় সোহেল ঘটনাস্থলের ভিডিও ধারণ করছিলেন। সেসময়ই গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি প্রাণ হারান। পরে রাতেই তাঁর মরদেহ শহরের বাসার নিচে রাখা হয় এবং বৃহস্পতিবার সকালে টুঙ্গিপাড়ায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
\r\nসোহেলের স্ত্রী নিশি বেগম বলেন, “আমার স্বামী কোনো রাজনীতি করত না। সে শুধু ব্যবসা আর পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থাকত। আমার দুই শিশু সন্তানের কী দোষ ছিল? ওদের এতিম করে দেওয়া হলো।”
\r\nসন্তানদের কোলে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে লাইলি বেগম শুধু বলছিলেন, “আমরা গোপালগঞ্জের মানুষ হইতে পারি, কিন্তু আমরা তো কারও বিরুদ্ধে কিছু করি নাই। আমার ছেলের সঙ্গে কেন এমন হলো?”





