নিশ্চিতভাবেই সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম যেন বাংলাদেশের জন্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অভিশপ্ত এক ভেন্যুতে পরিণত হয়েছে। ২০১৮ সালের নভেম্বরে এই মাঠেই ১৫১ রানে হেরেছিল টাইগাররা। সেই হার ছিল ২০১৩ সালের পর জিম্বাবুয়ের কাছে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট পরাজয়। ছয় বছর পর আবারও সেই লজ্জা ফিরে এলো—এবার তিন উইকেটের ব্যবধানে।

\r\n

সিলেটে টেস্টের চতুর্থ দিনে ১৭৪ রানের সহজ লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাট করতে নামে জিম্বাবুয়ে। শুরুটা ছিল দারুণ। দুই ওপেনার ব্রায়ান বেনেট ও বেন কারেন গড়েন ৯৫ রানের বড় জুটি। মেহেদী হাসান মিরাজ ব্রায়ান বেনেট (৫৪) ও শন উইলিয়ামসকে (৯) ফিরিয়ে বাংলাদেশকে খেলায় ফেরান। এরপর একে একে তাইজুল ইসলাম এবং মিরাজের ঘূর্ণিতে সাজঘরে ফিরে যান জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা।

\r\n

তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ওয়েসলে মাদভেরে অপরাজিত ১৯ রানে ও রিচার্ড এনগারাভা ৪ রানে মাঠ ছাড়েন জয় নিশ্চিত করে। এ জয়ে সিলেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট জিতলো জিম্বাবুয়ে।

\r\n

এর আগে ৪ উইকেটে ১৯৪ রান নিয়ে দিন শুরু করে বাংলাদেশ, তবে অলআউট হয়ে যায় মাত্র ২৫৫ রানে। শান্ত করেন ৬০ রান, জাকের আলীর ব্যাটে আসে লড়াকু ৫৮। বল হাতে জিম্বাবুয়ের পেসার ব্লেসিং মুজারবানি নেন ৬ উইকেট।

\r\n

ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত বোলিং করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম ইনিংসে ৫/৫২ আর দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৫০—দুই ইনিংসেই পাঁচ উইকেট শিকার করে রীতিমতো একার লড়াই চালিয়ে যান এই অফস্পিনার।

\r\n

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

\r\n

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ১৯১/১০ (মুমিনুল ৫৬, শান্ত ৪০; মাসাকাদজা ৩/২১)
\r\n
জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস: ২৭৩/১০ (উইলিয়ামস ৫৯, বেনেট ৫৭; মিরাজ ৫/৫২)
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ২৫৫/১০ (শান্ত ৬০, জাকের ৫৮; মুজারবানি ৬/৭২)
\r\n\r\n
জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস: ১৭৪/৭ (বেনেট ৫৪, কারেন ৪৪; মিরাজ ৫/৫০)

\r\n

চাপের মুখে থাকা বাংলাদেশ দলের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা—বিশেষ করে ঘরের মাঠে এমন পরাজয়।