বৃক্ষের পদতলে জীর্ণপত্রের অশেষ উৎসব,বাতাসে কীসের গন্ধ,কাদের সঙ্গীত,একদিন ঘুম ভেঙে দেখি, এসে গেছে শীত।’ কবির এই পঙক্তির মতোই প্রকৃতিতে নেমে এসেছে শীতের আবহ। চট্টগ্রাম  বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসজুড়ে পড়েছে কুয়াশার চাদর, হিমেল বাতাসের ছোঁয়ায় প্রকৃতি হয়ে উঠেছে মলিন। গাছের ডাল থেকে ঝরে পড়ছে হলদে পাতা, কাকের ডাক আর পাখির কিচিরমিচিরে মুখর চারপাশ।

শীতের সকাল কুয়াশা, শিশির ভেজা ঘাস এবং স্নিগ্ধ পরিবেশের জন্য পরিচিত। ক্যাম্পাসের মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, যেমন হ্যাভেন রোড বা কিলোরোডের দৃশ্য শীতকালে চবিতে মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। সকালে ঘন কুয়াশা ভেদ করে যখন সূর্য উঁকি দেয়, তখন ক্যাম্পাসের চারপাশ এক বিশেষ দ্যুতিতে ভরে ওঠে, যা অনেককেই মুগ্ধ করে। 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকালগুলো এখন যেন এক নিঃশব্দ কবিতার ভেতর দিয়ে হাঁটে। কুয়াশা মেখে থাকা পাহাড়গুলো দূর থেকে মনে হয় ঘুমন্ত কোনো ক্যানভাস, যার গায়ে স্নেহে হাত বুলিয়ে যায় হিমেল বাতাস। সূর্যের কোমল আলো লেকের জলে ছুঁয়ে যায় যেন সোনালি তুলির আঁচড়, আর সেই আলোয় ভেসে ওঠে চবির নির্জনতা।

ক্লাসের আগে কিংবা আড্ডার ফাঁকে চায়ের দোকানগুলোতে জমে ওঠে উষ্ণ কথোপকথন। কেউ রাজনীতি নিয়ে তর্কে মত্ত, কেউ আবার সাহিত্য বা ভালোবাসার সংজ্ঞা খুঁজে বেড়ায়। কুয়াশায় ঢাকা কাটা পাহাড়ের  রাস্তা ধরে হাঁটলে দেখা মেলে তুলি হাতে নিঃস্তব্ধ কিছু মুখ।যারা আঁকছে চবির শীত, তার নীরব রঙগুলো।

এই সময়টা চবির জন্য শুধু ঋতু নয়, এক অনুভব। পাহাড়ের গা বেয়ে নামা কুয়াশা যেন স্মৃতির পর্দা টেনে দেয় অতীতের দিকে। প্রেমিক-প্রেমিকাদের পা ফেলা শব্দ হারিয়ে যায় সেই নিস্তব্ধতায়। কেউ গল্প করে, কেউ কবিতা পড়ে, আর কেউ তাকিয়ে থাকে দূরের গাছের পাতায় জমে থাকা শিশির বিন্দুর দিকে।

চবির শীত এমন এক ঋতু, যেখানে প্রকৃতি আর মানুষ একসঙ্গে ধীর ছন্দে বেঁচে থাকে। এখানে সকাল মানে শুধু সূর্য ওঠা নয়, মানে এক নতুন অনুভূতির সূচনা। কুয়াশা ঢেকে রাখে পাহাড়, কিন্তু খুলে দেয় হৃদয়ের জানালা।যেখানে বাতাসে ভাসে এক অদৃশ্য নস্টালজিয়া।

এ যেন নিছক শীত নয়, চবির নিজস্ব এক কবিতা।যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাসে মিশে আছে হিমেল হাওয়া, নিস্তব্ধতা, আর অব্যক্ত ভালোবাসার সুর।