চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ফের তোলপাড় তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী নিজাম উদ্দিন। তার বন্দরকেন্দ্রিক আন্দোলন দমাতে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর দলীয় শীর্ষ পর্যায় ও তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা। শেষ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ফের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে দল।

সোমবার (১১ আগস্ট) এনসিপি মহানগর শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী (দপ্তর) আরিফ মঈনুদ্দিনের স্বাক্ষরিত নোটিশটি পাঠানো হয়। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১০ আগস্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি ভিডিও নগর কমিটির নজরে এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, নিজাম উদ্দিন এক ব্যক্তির কাছে আন্দোলন বন্ধের বিনিময়ে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করছেন।

নোটিশে বলা হয়, এটি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল। ‘আপনার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কেন ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে হবে। ব্যাখ্যা পাঠাতে হবে এনসিপি মহানগরের প্রধান যুগ্ম সমন্বয়কারী মীর আরশাদুল হকের কাছে।’ 

রোববার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফেসবুকে চাঁদা চাওয়ার কথোপকথনের ভিডিওটি ভাইরাল হয়। এটি আপলোড করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম নগর শাখার সাবেক যুগ্ম সদস্য সচিব রাহাদুল ইসলাম। পোস্টে তিনি লেখেন- ‘সাইফপাওয়ারটেকবিরোধী আন্দোলন দমন করতে গিয়ে নিজাম উদ্দিন ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এটা শুধু দুর্নীতিই নয়, ছাত্র-জনতার বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা।’

দেড় মিনিটের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, আফতাব হোসেন রিফাত নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে মেসেঞ্জারে কথা বলছেন নিজাম উদ্দিন। অন্য একটি ফোনে কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করা হয়। সেখানে আফতাব হোসেনকে আন্দোলন বন্ধের আশ্বাস দিয়ে নিজাম জানতে চান, টাকা দেয়া হয়েছে কিনা। আফতাব জানান, পাঁচ লাখ টাকা দেয়া হয়েছে। জবাবে নিজাম বলেন, “আরও পাঁচ লাখ টাকা নিতে পারো কিনা দেখো প্রেসার দিয়ে। নিতে পারলে রোহান, মীরদের কিছু দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা হবে।”

উল্লেখ্য, মীর ও রোহান দুজনই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। আর আফতাব হোসেন সংগঠনের চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক সমন্বয়ক বলে জানা গেছে।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রাতেই ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগের ব্যাখ্যা দেন নিজাম উদ্দিন। তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি সম্পূর্ণ সাজানো এবং তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংসের ষড়যন্ত্র। তিনি বলেন, “৩০ মে রাত ১২টায় এক ছোট ভাই রিফাত আমাকে কল দেয়। সেদিন আমি দুষ্টুমি করে অনেক কথা বলেছি। সেই ভিডিও রেকর্ড করে তারা আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়েছে। আমি কোনো টাকা চাইনি। চ্যালেঞ্জ দিচ্ছি, প্রয়োজনে গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করুক। রিফাতকে দিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করানো হয়েছে। আমি সুষ্ঠু তদন্ত চাই।”

নিজাম উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগেও গুরুতর চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ জুলাই এক নারী চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন, দুই কোটি টাকা চাঁদা না পেয়ে নিজাম তার স্বামীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। ওই সময় তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম নগর শাখার সদস্য সচিব ছিলেন। অভিযোগের পর পদ স্থগিত হলেও কিছু দিন পরই ফের দায়িত্বে ফিরে আসেন।

এই নতুন ভিডিও ও অভিযোগে এনসিপি’র ভেতরে অসন্তোষ বাড়ছে। নগর শাখার এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বারবার একই ধরনের অভিযোগ দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এবার যদি শক্ত পদক্ষেপ না নেয়া হয়, তৃণমূলে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরেক সিনিয়র নেতা বলেন, ভিডিও প্রমাণের যুগে অভিযোগকে হালকাভাবে নিলে সংগঠনই প্রশ্নবিদ্ধ হবে।