বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বরেণ্য নির্মাতা শেখ নজরুল ইসলামের মৃত্যুর খবরে। প্রবীণ এই পরিচালক দীর্ঘ ক্যারিয়ারে যাঁদের হাতে তৈরি হয়েছেন, তাঁদের অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে শোক জানিয়েছেন। চিত্রনায়ক ফারুকী মাহমুদ লিখেছেন, শেখ নজরুল ছিলেন একাধারে গুরু, পথপ্রদর্শক এবং চলচ্চিত্র ব্যাকরণের জীবন্ত অভিধান।

তাঁর জানাজায় অংশ নিতে নাটোর ও ঢাকা ছাড়াও বিভিন্ন জেলা থেকে শিল্পীরা রওনা হয়েছেন।চাঁদের আলো’ সিনেমার অভিনেত্রী রুমানা ইসলাম বলেছেন, শেখ নজরুল ইসলামের সঙ্গে কাজ করা তাঁর অভিনয়জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, পরিচালক নজরুল খুব শান্ত স্বভাবের ছিলেন এবং অভিনয়শিল্পীদের আবেগ বুঝতে পারতেন। রুমানা জানান, শুটিং সেটে তিনি অনেক সময় তরুণ অভিনয়শিল্পীদের ভুলও খুব ধৈর্য ধরে ঠিক করে দিতেন।প্রখ্যাত নির্মাতা শেখ নজরুল ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক এক বিবৃতিতে বলেন, তাঁর চলে যাওয়া বাংলা চলচ্চিত্রে অপূরণীয় ক্ষতি। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ক্যারিয়ারে তিনি যে সংখ্যাক চলচ্চিত্র তৈরি করেছেন, তা আজও শিক্ষানবিশদের জন্য রেফারেন্স হয়ে আছে।

সমিতি তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান করে।নির্মাতা শেখ নজরুল ইসলামের রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ ও স্ক্রিপ্টগুলো সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন তরুণ নির্মাতারা। তাঁদের মতে, ‘লেট দেয়ার বি লাইট’ এর টেকনিক ও চিন্তার ধরন সেই সময়ের জন্য অগ্রগামী ছিল। চলচ্চিত্র গবেষকরা বলছেন, এগুলো সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম চলচ্চিত্রের ইতিহাস সম্পর্কে আরও সমৃদ্ধ ধারণা পাবে।জন্মস্থান নাটোরের কালিগঞ্জ থানার পিপরুল গ্রামে ইতোমধ্যে জানাজার প্রস্তুতি চলছে। এলাকাবাসী জানান, শেখ নজরুল ইসলাম ছোটবেলায় এখানেই বেড়ে উঠেছেন এবং গ্রামের মানুষ তাঁকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তাঁর স্মরণে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকেও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে।