৩৫ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে অবশেষে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির ও বাম সংগঠনসহ ১০টি পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে আলোচিত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদের জন্য মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন ১ হাজার ১৬২ জন। তবে শেষ পর্যন্ত ৯৩১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী ভোট দেবেন আগামী ১২ অক্টোবর। প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ হবে ২১ সেপ্টেম্বর, প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর এবং চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৫ সেপ্টেম্বর।

ছাত্রদলের প্যানেল

বৃহস্পতিবার দুপুরে বুদ্ধিজীবী চত্বরে ছাত্রদলের প্যানেল ঘোষণা করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন। সহসভাপতি (ভিপি) পদে লড়বেন দর্শন বিভাগের সাজ্জাদ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন ক্রীড়াবিজ্ঞান বিভাগের মো. শাফায়াত হোসেন।
নাছির উদ্দিন অভিযোগ করেন, “চাকসু নির্বাচনে চবি প্রশাসন একদলীয় আচরণ করছে এবং একটি নির্দিষ্ট সংগঠনের প্রতি পক্ষপাতমূলক ভূমিকা রাখছে।”

শিবিরের প্যানেল

ইসলামী ছাত্রশিবির ‘সম্প্রীতি শিক্ষার্থী জোট’ নামে তাদের প্যানেল ঘোষণা করেছে জারুলতলায়। সহসভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন চবি শিবির নেতা ও ইতিহাস বিভাগের এমফিল শিক্ষার্থী ইব্রাহিম হোসেন। সাধারণ সম্পাদক পদে লড়বেন ইতিহাস বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী সাঈদ বিন হাবিব।
কেন্দ্রীয় নেতা সাইদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের প্যানেলটি অন্তর্ভুক্তিমূলক। এখানে ভিন্নধর্মী শিক্ষার্থী যেমন আছেন, তেমনি নারী শিক্ষার্থীরাও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।”

বাম জোটের প্যানেল

‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ নামের প্যানেল দিয়েছে বাম সংগঠনগুলোর জোট। ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিলের ধ্রুব বড়ুয়া এবং জিএস পদে পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সুদর্শন চাকমা। সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়বেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর জাকিরুল ইসলাম (জশদ জাকির)। এই ২৬ সদস্যের প্যানেলে ১১ জন পাহাড়ি শিক্ষার্থী রয়েছেন।

স্বতন্ত্র প্যানেল

‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’ নামের প্যানেলও ঘোষণা করা হয়েছে। ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ (বাগছাস) এর যুগ্ম আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান। জিএস পদে প্রার্থী হয়েছেন সংগঠনটির বহিষ্কৃত নেতা আর এম রশিদুল হক দিনার এবং এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন জান্নাতুল ফেরদৌস।

নেই আলোচিত তিন সমন্বয়ক

চবি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আলোচিত তিন সমন্বয়ক— রাসেল আহমেদ, খান তালাত মাহমুদ রাফি ও আল মাসনূন— এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না।
রাফি ও মাসনূন দুজনই বাগছাসের নেতা এবং রাসেল আহমেদ জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় সংগঠক। দলীয় সমন্বয়হীনতা ও কেন্দ্র থেকে সমর্থন না পাওয়ায় তারা সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা গেছে।
আল মাসনূন বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সংগঠন থেকেও কোনো প্যানেল দেওয়া হচ্ছে না।”