জাপানের কৃষিমন্ত্রী তাকু ইতো তার একটি মন্তব্যের জন্য তীব্র সমালোচনার শিকার হয়েছেন, যা তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেছে। তিনি এক অনুষ্ঠানে মজা করে বলেছিলেন, \"আমি এত চাল উপহার পাই যে, আমার কেনার প্রয়োজন হয় না।\" তবে দেশে যখন জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং চালের দাম এক বছরের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়ে গেছে, তখন মন্ত্রীর এই মন্তব্য জনগণের কাছে হাস্যকর এবং অমার্জনীয় বলে প্রতিভাত হয়।

\r\n

চাল জাপানে একটি স্পর্শকাতর রাজনীতি বিষয়। অতীতে চালের সংকটের কারণে বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়ের উদাহরণ রয়েছে, যেমন ১৯১৮ সালে চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যাপক দাঙ্গা এবং সরকারের পতন ঘটেছিল। বর্তমানে, কৃষিমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর সরকারের প্রতি জনগণের ক্ষোভ আরও বেড়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সংখ্যালঘু সরকার সংকটের মুখে পড়েছে।

\r\n

জাপানে চালের দাম বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ সংকটকে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। ইবারাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতিবিদ কুনিও নিশিকাওয়া জানিয়েছেন, সরকারের চালের চাহিদা হিসাব করার ক্ষেত্রে ভুল ছিল, যার কারণে চালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূর্ণ হয়নি। ২০২৩-২৪ সালে সরকারের অনুমান ছিল ৬.৮ মিলিয়ন টন চালের চাহিদা, কিন্তু বাস্তবে তা ছিল ৭.৫ মিলিয়ন টন। উৎপাদনও ছিল পূর্বানুমান থেকে কম, মাত্র ৬.৬১ মিলিয়ন টন।

\r\n

এছাড়া করোনার পর জাপানে কম দামের খাবারের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে চালের চাহিদাও বেড়ে যায়। বিদেশি পর্যটকদের আগমনের কারণেও এর চাহিদা আরও বাড়ে। কৃষি মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে, গরমের কারণে উৎপাদন কমেছে এবং উৎপাদনের গুণমানও খারাপ হয়েছে।

\r\n

জাপানে চাল উৎপাদন লাভজনক না হওয়ায় অনেক কৃষক ধান চাষে আগ্রহী ছিলেন না। কোসুকে কাসাহারা নামের এক কৃষক বলেছেন, \"তখন ৬০ কেজি চাল উৎপাদনে খরচ পড়ত ১৮,৫০০ ইয়েন, অথচ বিক্রি করতে হতো ১৯,০০০ ইয়েনে। লাভ ছিল মাত্র ৫০০ ইয়েন!\"

\r\n

সরকার কৃষকদের ধান চাষে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন ধরনের ভর্তুকি দিতো, কিন্তু বর্তমানে চালের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কৃষকদের ধান চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

\r\n

চালের সংকট এত তীব্র হয়ে উঠেছে যে, গত ২৫ বছরে প্রথমবারের মতো চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। দেশটি দক্ষিণ কোরিয়া থেকে চাল আমদানি করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে, আমদানির প্রতি জাপানিরা বিরোধিতা জানাচ্ছেন, কারণ তারা মনে করেন, বিদেশি চালের পরিবর্তে স্থানীয় কৃষকদের সাহায্য করা উচিত।