চুয়াডাঙ্গায় স্বাস্থ্য সহকারী পদের নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। রোববার (৬ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারাও একাত্মতা প্রকাশ করেন।


চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করেন, গত ২০ জুন অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। শুধু তাই নয়, পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকা একাধিক প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন এবং এক এলাকার প্রার্থীদের অন্য এলাকায় স্থানান্তরের ঘটনাও ঘটেছে। তারা বলেন, “যারা পরীক্ষা দেননি, তারাও চাকরি পেয়েছেন; আর প্রকৃত মেধাবীরা বাদ পড়েছেন। এটা চরম দুর্নীতি।”


বিক্ষোভকারীরা জানান, পরীক্ষার আগের দিন অর্থাৎ ১৯ জুন গভীর রাত পর্যন্ত সিভিল সার্জনের কার্যালয় খোলা ছিল। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় বিশেষ কিছু প্রার্থীর পরীক্ষাকেন্দ্র বদল করা হয়। পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় ২২ জুন, তবে পরদিন ফলাফলেও পরিবর্তন আনা হয়। নতুন ফলাফলে দেখা যায়, পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া কয়েকজন প্রার্থীকেও উত্তীর্ণ দেখানো হয়েছে।


তারা আরও বলেন, “সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া কোনো নিয়োগ গ্রহণযোগ্য নয়। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।” একই সঙ্গে চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দীনের প্রত্যাহার এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


আন্দোলনরতরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমাদের দাবি মানা না হলে আমরণ অনশনে যাবো। প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে রিট করবো।”


প্রসঙ্গত, ২০ জুন চুয়াডাঙ্গা জেলার ১৯টি কেন্দ্রে একযোগে স্বাস্থ্য সহকারী পদের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ৩৯টি শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ১৩ হাজার ৬৬৮ জন। তবে পরীক্ষায় অংশ নেন মাত্র ৪ হাজার ৮৭৪ জন। ফলপ্রকাশ ও চূড়ান্ত নিয়োগের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ।