আমাদের মধ্যে অনেকেই চোখের পাতা হঠাৎ কাঁপতে বা লাফাতে দেখলে মনে করি, এটি কোনো অশুভ ঘটনার ইঙ্গিত। অনেকে আবার বিশ্বাস করেন, ডান চোখ কাঁপলে ভালো কিছু হবে আর বাম চোখ কাঁপলে খারাপ কিছু ঘটবে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়


চিকিৎসকদের মতে, চোখের পাতা লাফানো সাধারণত গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা নয়। বেশিরভাগ সময়ই এটি ক্ষতিকর নয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই নিজে থেকে বন্ধ হয়ে যায়। তবে কখনো কখনো এটি শরীরের ভেতরে থাকা অন্য কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।


দীন মোহাম্মদ চক্ষু হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. মো. আরমান হোসেন রনি জানান, চোখের পাতার ভেতরে ছোট ছোট পেশি থাকে যেগুলো স্নায়ুর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। যখন এই স্নায়ুতে চাপ পড়ে বা সমস্যা দেখা দেয়, তখন চোখের পাতা অনিয়মিতভাবে কাঁপতে পারে। এ অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ব্লেফারোস্পাজম বলা হয়।

কেন লাফায় চোখের পাতা?

চোখের পাতা কাঁপার কিছু সাধারণ কারণ হলো—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও ঘুমের অভাব

মানসিক চাপ বা টেনশন

বেশি চা-কফি (ক্যাফেইন) খাওয়া

চোখের শুষ্কতা বা চুলকানি

দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার

কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন

কখন চিন্তার কারণ হতে পারে?


সাধারণত চোখ কাঁপার বিষয়টি স্বাভাবিক হলেও, বারবার হলে বা দীর্ঘসময় স্থায়ী হলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। বিশেষ করে যদি চোখের ঝাপসা দেখা, লাল হওয়া বা ফোলা, চোখ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া, মুখের এক পাশে অবশভাব বা চোখের পাতায় টান টান অনুভূতির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এসব সমস্যা স্নায়বিক রোগ যেমন পারকিনসনস, মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, ফেসিয়াল প্যারালাইসিস বা ট্যুরেটস সিনড্রোমের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে।


কী করবেন?

হালকা চোখ কাঁপা কমানোর জন্য ঘরোয়া কিছু অভ্যাস কার্যকর হতে পারে—

নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা

চোখকে বিশ্রাম দেওয়া

মোবাইল/কম্পিউটার ব্যবহার কমানো

চা-কফি কম খাওয়া

ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা

হালকা গরম কাপড়ে চোখে সেঁক দেওয়া

মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করা

চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন কখন?

যদি চোখ কাঁপা নিয়মিত হয় বা এক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়

যদি চোখে ব্যথা, ফোলা বা ঝাপসা দেখা দেয়

যদি মুখের এক পাশে অবশভাব দেখা দেয়


চোখের পাতা কাঁপা বেশিরভাগ সময় ক্ষতিকর না হলেও, শরীর মাঝে মাঝে এমন সংকেত দিয়ে আমাদের সতর্ক করে। তাই এটিকে অশুভ ভাবার বদলে সচেতন হওয়াই ভালো।