জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে পেশিশক্তি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছে ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্যানেল।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে আয়োজিত এক তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন প্যানেলটির ভিপি প্রার্থী কিশোয়ার আনজুম সাম্য।
সংবাদ সম্মেলনে কিশোয়ার সাম্য বলেন, নির্বাচনে ছাত্রদল প্রকাশ্যে মাসল পাওয়ার দেখাচ্ছে। সমাজকর্ম বিভাগের ১০২ নম্বর কক্ষে আমাদের পোলিং এজেন্টকে ঢুকতে বাধা দিয়েছে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের পোলিং এজেন্টরা প্রকাশ্যেই আচরণবিধি লঙ্ঘন করছে। ভোটারদের হাতে তাবিজ বিতরণ করা হচ্ছে, যা ভোটের দিনে স্পষ্টভাবে আচরণবিধিবিরোধী।
তিনি নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সাম্যের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। শিক্ষকদের একটি অংশ ছাত্রদলের পক্ষে, আরেকটি অংশ জামায়াতের পক্ষে কাজ করছে। এছাড়া ভোটারদের হাতে দেওয়া কালি কিছু সময় পর উঠে যাচ্ছে, যা ভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে।
এ সময় জিএস পদপ্রার্থী ফয়সল মুরাদ বলেন, নির্বাচনে একাধিক অনিয়ম হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, পোলিং এজেন্টরা নিজ নিজ বুথ থেকে ভোটার স্লিপ বিতরণ করছে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, নির্বাচন চলাকালে যদি নিয়ম বদলানো হয়, তাহলে কি প্রতি মিনিটে নিয়ম পরিবর্তন হবে? যদি স্লিপ বিতরণ বৈধ হতো, তাহলে আমরাও তা করতাম। কিন্তু আমাদের তা করতে দেওয়া হয়নি। এর অর্থ হলো তারা আগেই স্লিপ প্রস্তুত করে এনেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভেতরে দুটি সক্রিয় বলয় কাজ করছে। একটি বলয় ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলকে নিয়মিত সুবিধা দিচ্ছে, আরেকটি বলয় ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলকে সুবিধা দিচ্ছে। এসব বলয়ের কারণেই নির্বাচন বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই, কিন্তু নির্বাচন কমিশন আমাদের বারবার হতাশ করছে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে জকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বিরতিহীনভাবে এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত।





