স্বৈরাচারী শাসনের গত ১৫ বছরে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির— এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “এই সময়ে ছাত্রশিবিরের সদস্যরা লেখাপড়া, মানসিক বিকাশ ও জীবনযাপনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তারা কোনো কিছুই স্বাভাবিকভাবে করতে পারেনি।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলামের ইতিহাসে অতীতেও অপপ্রচার ছিল, এখনো একটি গোষ্ঠী তা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এসব অপপ্রচারের জবাব আমরা গঠনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে দেব, ইনশাআল্লাহ। যারা অপপ্রচারে লিপ্ত, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।”
রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘লিডারশিপ ট্রেনিং ক্যাম্প ২০২৫’-এর সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইসলামী ছাত্রশিবিরের শাখা দায়িত্বশীলদের নিয়ে আয়োজিত এই দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় গত সোম ও মঙ্গলবার। বুধবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় সংগঠনটি।
দায়িত্বশীলদের উদ্দেশ্যে জামায়াত আমির বলেন, “ছাত্রসমাজ ছাত্রশিবিরকে ভালোবাসে। সেই ভালোবাসার মূল্যায়ন করতে হবে। একাডেমিক পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে হবে, হতে হবে সাহসী ও পরিশ্রমী, যাতে ছাত্রসমাজের আশা ও আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা যায়।”
ক্যাম্পে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম। কর্মসূচিতে উন্মুক্ত আলোচনা, প্রশ্নোত্তর পর্ব, ব্রেইনস্টর্মিং, সংগঠন সম্প্রসারণ ও মজবুতি, জনশক্তি ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব বিকাশ, অফিস পরিচালনা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোচনা হয়।
সমাপনী বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আমরা সবার জন্য একটি কল্যাণময় বাংলাদেশ গড়তে চাই। এজন্য নিজেদের আদর্শিক চরিত্র ও আমানতদারীতার পরিচয় দিতে হবে। দায়িত্বশীলদের বিশ্বমানের নেতৃত্বে রূপান্তরিত হতে হবে।”
ক্যাম্পে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এটিএম আজহারুল ইসলাম, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, পরিকল্পনাবিদ সিরাজুল ইসলাম, সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, শিক্ষাবিদ ড. মোহাম্মদ আসাদুল্লাহসহ আরও অনেকে।





