জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেছেন, তাঁরা এমন একটি সংবিধান চান, যা জনগণের গণতন্ত্র রক্ষা করবে, ভোটাধিকার নিশ্চিত করবে এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বজায় রাখবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসা ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনবে এবং ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করবে।

সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কেমন সংবিধান চাই’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

আখতার হোসেন বলেন, “আমরা এমন সংবিধান চাই, যা সব শ্রেণি, ধর্ম ও জনগোষ্ঠীর অধিকারকে ধারণ করতে পারবে। রাষ্ট্রক্ষমতায় ভারসাম্য নিশ্চিত করতে পারবে।” তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান সংবিধান নিয়ে যেকোনো সময় আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে, কারণ এর মূল কাঠামো ১৯৭২ সালের সংবিধানের ভিত্তিতেই টিকে আছে। তাই নতুন কাঠামো নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হওয়া প্রয়োজন।

জুলাই সনদকে দেশের “সম্পদ” আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এটি বাস্তবায়ন করা হবে, নাকি কেবল অঙ্গীকার হিসেবেই পড়ে থাকবে।

সেমিনারে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব জহিরুল ইসলাম বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে ফ্যাসিবাদী কাঠামো বিদ্যমান ছিল। কয়েক বছরের মাথায় শেখ মুজিবুর রহমান বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে সেটি ধ্বংস করে দেন। তাঁর মতে, ৩৬ জুলাই জনরায়ের মাধ্যমে ওই সংবিধান কার্যত বাতিল হয়ে গেছে। তাই নতুন গণপরিষদ নির্বাচন ছাড়া জনগণের মুক্তির পথ নেই।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন বলেন, “অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমরা দেখেছি, সেখানে এগোতে হলে মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন। আমরা নির্বাচন চাই, তবে তা হতে হবে গণপরিষদ নির্বাচন, যাতে জুলাই সনদকে টেকসই রূপ দেওয়া যায়।”

বিদ্যমান সংবিধানকে “মৃত” আখ্যা দিয়ে যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, এই সংবিধানের ভেতর থেকেই বারবার সামরিক শাসন ও জরুরি অবস্থা এসেছে।

সেমিনারে এনসিপি ও জাতীয় যুবশক্তির নেতারা বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ঢাকা মহানগরের নেতা–কর্মীরা।

আলোচনায় জাবেদ রাসিন স্পষ্ট করে বলেন, কোনো যুগপৎ আন্দোলনে যাবে না এনসিপি। তিনি বলেন, “আমাদের কিছু দাবির সঙ্গে অন্য দলের মিল থাকতে পারে, কিন্তু আমরা নিজেদের মতো করে আন্দোলন করব। কোনো জোটে বা যুগপৎ কর্মসূচিতে এনসিপি অংশ নেবে না।”

তিনি যোগ করেন, বাজারে এনসিপি জোটে যাচ্ছে বলে নানা গুজব ছড়ালেও তা সঠিক নয়। দলটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে ও মধ্যপন্থী রাজনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে এককভাবে কাজ করছে।