ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের শাখা) এবং জাতীয় পার্টির (একাংশ) আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জেপি নেতা আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) প্রার্থীদের অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার নির্দেশ চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে।
হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় গত রোববার (৪ জানুয়ারি) ভোলার বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মাহমুদ এ রিট দায়ের করেন। রিটকারীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির ছিলেন। তিনি জানান, রিটে আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি (জিএম কাদের শাখা) ২৪৩ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গত ২৬ ডিসেম্বর গুলশানের লেকশোর হোটেলে মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, জাতীয় পার্টি (আনিসুল ইসলাম) ও জেপি নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করা নতুন জোট জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) ১১৯ আসনে ১৩১ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এর আগে ২৩ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পার্টির নির্বাহী চেয়ারম্যান মুজিবুল হক চুন্নু প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করেন।
রিট দায়েরের কারণ জানতে চাইলে শাহরিয়ার কবির বলেন, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট ‘মহাজোট’ হিসেবে পরিচিত। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে এই মহাজোট মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। ১৪ দলের মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ/ইনু), জাতীয় পার্টি (এরশাদ), জাতীয় পার্টি (মঞ্জু), তরিকত ফেডারেশনসহ অন্য দলগুলোও অপরাধে যুক্ত বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তাই সংবিধানের ৬৬(২)(ঙ) ধারা অনুযায়ী তারা নির্বাচনের অযোগ্য।
তিনি আরও বলেন, গত বছরের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে জানিয়েছিল, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতা-কর্মীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ। রিটে এই প্রজ্ঞাপনের প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে।
শাহরিয়ার কবির বলেন, ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সরকার আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। যেহেতু ভ্রাতৃপ্রতিম জাতীয় পার্টি সব সময় আওয়ামী লীগের নীতি ও আদর্শ সমর্থন করেছে, তাই এই দলের প্রার্থী কীভাবে নির্বাচন কমিশন দ্বারা বৈধতা পাবে তা প্রশ্নবিদ্ধ।





