বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন। তার উপদেষ্টা ড. মাহদি আমিন ফেসবুক পোস্টে এই তারিখ বেছে নেওয়ার কারণ এবং প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন।
ড. মাহদি জানান, প্রায় দেড় যুগ পর তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ব্যক্তিগত ফেরার ঘটনা নয়, বরং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান এবং ব্যাপক জনসমাগমের প্রতীক।
তার সঙ্গে একই ফ্লাইটে দেশে ফিরছেন তার সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। ফ্লাইট সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। অবতরণের পর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ও প্রটোকল ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।
দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী, তারেক রহমান প্রথমে হাসপাতালে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ তার মা, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তিনি রাজধানীর ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ এলাকায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবেন। পরে সরাসরি গুলশানে নিজ বাসায় যাবেন।
‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’ নির্বাচন করা হয়েছে যাতে জনদুর্ভোগ কম হয়। ঐতিহাসিক স্থানগুলো বাদ দিয়ে রাজধানীর একপাশে, প্রশস্ত সড়কের পাশে সংক্ষিপ্ত গণঅভ্যর্থনার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি কোনো সংবর্ধনা নয়, বরং দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানো এবং দেশনেত্রীসহ দেশের কল্যাণ কামনায় দোয়া করার একটি কর্মসূচি।
জনভোগান্তি কমাতে ঢাকায় ২০টি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বক্তৃতাস্থলের কাছে অস্থায়ী ফিল্ড হাসপাতাল, আইসিইউ সুবিধাসম্পন্ন অ্যাম্বুলেন্স, মোবাইল টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যানজট এড়াতে বিমানবন্দর ও ঢাকার প্রবেশমুখে বিশেষ হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।
২৫ ডিসেম্বর বেছে নেওয়া হয়েছে যাতে সরকারি ছুটির কারণে নাগরিক চাপ ও যানজট কম হয়। নেতাকর্মীদের শান্তিপূর্ণ আচরণ, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ড. মাহদি বলেন, এই প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি কেবল একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং জনগণের ঐক্য, গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।





