জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি ও আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার মাহাথির মোহাম্মদের প্রতিচ্ছবি দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি। এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াত-নেতৃত্বাধীন ১০-দলীয় জোটে যুক্ত হয় লেবার পার্টি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ জামায়াত ও লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারা।
ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, “আমরা ইনসাফের বাংলাদেশ চাই। আজ ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে দেশের মানুষ একজন ইমাম খোমেনি ও মাহাথির মোহাম্মদের মতো মানবিক ও আদর্শবান নেতার প্রত্যাশা করছে। আমাদের মাঝেই সেই নেতৃত্বের আবির্ভাব হয়েছে।”
তিনি বলেন, ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্য, কর্মসূচি ও আচরণ গোটা জাতিকে উজ্জীবিত করেছে। এই উজ্জীবিত জাতির সঙ্গে বাংলাদেশ লেবার পার্টিও পিছিয়ে থাকতে পারে না। সে কারণেই আমরা আজ সহযাত্রী হয়েছি এবং আমাদের পথচলা শুরু করেছি।
লেবার পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার যে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, সেই সংগ্রামে একজন কর্মী হিসেবেই তারা যুক্ত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জনগণের কাছে যে অঙ্গীকার ছিল আওয়ামী দুঃশাসন, আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, সামনের ১২ তারিখের নির্বাচনে যদি কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, তাহলে দেশ ও জনগণের ভাগ্যের কোনো প্রকৃত পরিবর্তন হবে না।”
মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, তারা একটি অর্থবহ পরিবর্তন চান, যার মধ্য দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং জুলাইয়ের আবেদন, অঙ্গীকার ও জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে। সে লক্ষ্যেই নতুন এই রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, লেবার পার্টি প্রায় দুই দশক ধরে ১৮-দলীয় জোটে থেকে জামায়াতের সঙ্গে কাজ করেছে। নীতি ও নৈতিকতার প্রশ্নে তারা পরীক্ষিত এবং কখনো কোনো স্বার্থ বা সুবিধার কাছে মাথা নত করেনি।
তিনি বলেন, “আজ আমরা এমন এক সময়ে এই জোটে যুক্ত হয়েছি, যখন আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো আসন পাওয়ার সুযোগও নেই।”
বিএনপির সমালোচনা করে মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর যাদের সঙ্গে তারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন, তাদের আচরণে এখন ক্রমেই ফ্যাসিবাদের ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।





